নির্বাচনকালীন দল ছেড়ে দিলে সংসদ সদস্যপদ বাতিল হবে, মালদ্বীপ সুপ্রিম কোর্টের রায়

নির্বাচনকালীন দল ছেড়ে দিলে সংসদ সদস্যপদ বাতিল হবে, মালদ্বীপ সুপ্রিম কোর্টের রায়

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

এ্যাটর্নি জেনারেলের আহ্বানকৃত দল-ত্যাগ বিরোধী আইন প্রনয়ণের পক্ষে রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনজন বিচারকের প্যানেলের সর্বসম্মতিক্রমে প্রধান বিচারপতি আবদুল্লা সাঈদ ঘোষণা দেন যে, সংসদ সদস্যরা তাদের আসন হারাবে যদি তারা রাজনৈতিক দলীয় টিকিট নির্বাচন জেতার পর সেই দল পরিবর্তন করে, পদত্যাগ করে বা বহিষ্কৃত হয়। সংসদে দল-ত্যাগ বিরোধী নতুন আইন চূড়ান্ত করার আগ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলিকে ১৩ জুলাই থেকে এই নিয়ম জারি করার আদেশ দেয়। তবে এখানে মার্চ ২০১৪ নির্বাচনের পর পর যে সকল সংসদ সদস্য সরকারী দলে যোগ দিয়েছিল তাদের রেহাই দেওয়া হয়।

গত সপ্তাহে সংসদে প্রেসিডেন্ট আবদুল্লা ইয়ামিন সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর এ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আনিল দল পরিবর্তন প্রশ্নে সংবিধানের ব্যাখ্যা করার জন্য আদালতে কাছে যান। বিরোধী দলীয় জোটের কয়েকজন ক্ষমতাসীন দলীয় সংসদ সদস্যদের সমর্থন নিয়ে স্পিকারের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেওয়ার একই দিনে এ্যাটর্নি জেনারেল এই আবেদনটি করেন। মালদ্বীপের ক্ষমতাসীন প্রগ্রেসিভ পার্টি ছেড়ে চলে গেছেন এমন দশজন সংসদ সদস্য প্রস্তাবটি সই করেছেন কিন্তু দলের সচিবালয় তাদের পদত্যাগ প্রত্যাখ্যান করেছে। বলা হচ্ছে যে, ইথিক্স কমিটির অনুসন্ধানের পরে এটা যাচাই করা হবে।

সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুসারে  নির্বাচন কমিশন তাদের অবস্থার পরিবর্তনের কথা সংসদকে জানানোর পর সংসদ সদস্যরা তাদের আসন হারাবে। অযোগ্য ঘোষিত সংসদ সদস্যরা পরে খালি হওয়া আসনের উপ-নির্বাচন করতে সক্ষম হবে। এগারো পয়েন্টের উল্লেখ করে  প্রধান বিচারপতি বলেন, স্ব স্বার্থে সংসদ সদস্যদের দল থেকে সরে বহু-দলীয় গণতন্ত্রকে খাটো করে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও আইনের শাসনের জন্য তা হুমকি স্বরূপ। ভারত, আমেরিকা, সিঙ্গাপুর, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, সিসিলিস, নেপাল ও বাংলাদেশের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এসব দেশে অনেক আগে থেকেই দলত্যাগ বিরোধী আইন আছে। তিনি বলেন, “দল পরিবর্তনের ঘটনাটি আইন দ্বারা অবিলম্বে নিষিদ্ধ হওয়া উচিত”।

বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী  একজন সংসদ সদস্য যদি এক বছরেরও বেশি সময়ের জন্য কারাগারে দণ্ডিত হয়, ডিক্রিকৃত ঋণ থাকে অথবা বিচার বিভাগের সদস্য হয় তখনই তাকে এমপি থাকার অযোগ্য ঘোষণা করা হবে।

print