যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রতা ভারতের জন্য বেশি লাভজনক হবে না

যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রতা ভারতের জন্য বেশি লাভজনক হবে না

এসএএম রিপোর্ট,
শেয়ার করুন

সিকিম সীমান্তে চীনের সঙ্গে ভারতের বিরোধ এমন এক সময় দেখা দিয়েছে যখন প্রাচীন সিল্ক রোড ও সামুদ্রিক বাণিজ্য পথগুলো পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে জোরালো উদ্যোগ নিয়ে বেইজিং এগিয়ে যাচ্ছে। চীন, নেপাল, ভারতসহ গোটা হিমালয়ান অঞ্চলের প্রতি নজর রেখে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এখন চলছে।

কিন্তু ভারত এই ‘অঞ্চল ও সড়ক উদ্যোগ’ (বিআরআই)’র বাইরে থাকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা বর্তমান যুগের চাহিদা বিরোধী বলে মনে করছেন চীনের বিশেষজ্ঞরা। এতে চীনের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়া চীনের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল ভোগ থেকে গোটা দক্ষিণ এশিয়া বঞ্চিত হওয়া ঝুঁকিতে পড়েছে বলেও তারা মনে করেন। তাছাড়া নতুন অর্থনৈতিক বিশ্ব ব্যবস্থার কেন্দ্র হিসেবে এশিয়ার উত্থানকেও গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এটি।

সম্প্রতি বেইজিং এর সরকারি দৈনিক গ্লোবাল টাইমস পত্রিকায় ‘ভারতের ভবিষ্যৎ এশিয়ায়’ শীর্ষক এক নিবন্ধে বলা হয় যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়াশীল জাতীয়তাবাদ গোটা মানবতার জন্য কল্যাণের একটি অন্তভুর্ক্তিমূলক উন্নয়নের প্রয়োজনকে প্রত্যাখ্যান করছে। অন্যদিকে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যে বিআরআই সামনে নিয়ে এসেছেন তা শুধু উন্নয়নের একটি কৌশলগত পরিকল্পনাই নয়, বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও মানবতার অগ্রগতি সাধনও এর লক্ষ্য।

বিআরআই দক্ষিণ-পশ্চিম চীন ও মধ্য এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের অভূতপূর্ব সম্ভাবনা সৃষ্টি করায় তা থেকে ভারতও ব্যাপক উপকৃত হতে পারে। এই উদ্যোগ ভারতের উত্তরাঞ্চলের জন্য আশির্বাদের মতো। কারণ, এখানকার বিহার ও উত্তর প্রদেশের মতো বড় বড় রাজ্যগুলোতে প্রকট দারিদ্র বিরাজ করছে।

চীনা পত্রিকাটি লিখেছে, চীন এই উদ্যোগ নিলেও শুধু চীন এর সুফল ভোগ করবে তা কিন্তু নয়। এর সবচেয়ে বড় সুফলভোগী হতে পারে দক্ষিণ এশিয়া। আর এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় দেশ হিসেবে ভারত হতে পারে সুফলের সবচেয়ে বড় অংশীদার।

অবকাঠামো নেটওয়ার্ক, জ্বালানি উৎপাদন ও সরবরাহ এবং শিল্পক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত অর্জনের দিক দিয়ে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চল অনেক পিছিয়ে আছে।

বিশ্বের দারিদ্র্যকবলিত জনগোষ্ঠীর ৪৩ শতাংশের বাস এই অঞ্চলে। এর আবার ৬০ শতাংশের বাস শুধু ভারতে। এই পরিস্থিতি বলে দেয় যে কানেকটিভি সৃষ্টির সম্ভাবনা যত জোরদার হবে তাতে জনগণের সমৃদ্ধি লাভের সম্ভাবনাও তত বাড়বে।

আর তাই চীনা পত্রিকাটি মনে করে, এক্ষেত্রে বর্তমানে ভারত-চীন সীমান্তে যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে তা দু’দেশের মধ্যে আস্থাকে আরো বিনষ্ট করবে। এতে পারস্পরিক বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও অন্যান্য উন্নয়নের সম্ভাবনা গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

চীন মনে করে, ১৮৯০ সালে বৃটেনের সঙ্গে তার যে চুক্তি হয়েছিলো তা মেনে নিয়ে উত্তেজনা কমিয়ে আনার দায়িত্ব ভারতের। তাই ভুটানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার যে অজুহাত ভারত দেখাচ্ছে তা আন্তর্জাতিক আইনে টিকবে না বলেও চীন মনে করে।

পত্রিকাটি লিখেছে, চীনের সঙ্গে সীমান্তে বিরোধ দেখা দিলে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আলোচনার মাধ্যমে তা নিষ্পত্তির অধিকার ভুটানের রয়েছে বলে যুক্তি দেয়া যেতে পারে। তাই একটি বড় দেশ হিসেবে ভারতেরও শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সমস্যাগুলো নিরসনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

কিন্তু এর বদলে যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রদের সমর্থনে সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের জন্য ভারত যে চেষ্টা করছে তা পরিস্থিতিকে আরো খারাপের দিকে নিয়ে যাবে।

পত্রিকাটি মনে করে, এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমেই ভারত ও এর প্রতিবেশি দেশগুলোর স্বার্থ সবচেয়ে ভালোভাবে রক্ষিত হতে পারে। পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে মিত্রতার বন্ধন ভারতের জন্য বেশি সুফল বয়ে আনবে না।

print
শেয়ার করুন