জাতিসংঘের বিশেষ দূতের ধিক্কার; বলেছেন নির্যাতনে বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে শ্রীলংকা

জাতিসংঘের বিশেষ দূতের ধিক্কার; বলেছেন নির্যাতনে বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে শ্রীলংকা

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

শ্রীলংকায় চার দিনের সফরে থাকা জাতিসংঘের বিশেষ দূত বেন এমারসন শুক্রবার গণমাধ্যমকে জানান যে, জেলখানায় আটক ব্যক্তিদের নির্যাতনের দিক দিয়ে ‘বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ’ অবস্থানে আছে শ্রীলংকা। এর আগে সপ্তাহের শুরুর দিকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং যুদ্ধের দায়বদ্ধতার বিষয়ে তিনি আইন ও বিচার মন্ত্রী ড. উইজায়াদাসা রাজাপাকসের সাথে উত্তপ্ত এক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। শ্রীলংকাতে সন্ত্রাসবিরোধী আইন (পিটিএ)-এর আওতায় হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের নির্যাতন “প্রকাণ্ড ও ভয়ঙ্কর” বলে দাবী করেন।

শ্রীলংকা চতুর্থ দিনের সফর শেষে সাংবাদিকদের এমারসন বলেছিলেন যে, অক্টোবর ২০১৬ এর হিসাবে পিটিএ’র (সন্ত্রাসবিরোধী আইন) অধীনে বন্দীদের নির্যাতনের ৮০টি ঘটনার প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছিল এবং এসময় পিটিএ প্রত্যাহার করার জন্য জোরালোভাবে আহ্বান জানানো হয়েছিল। সপ্তাহের শুরুতে এমারসন এবং শ্রীলংকার বিচারমন্ত্রীর মধ্যেকার আনুষ্ঠানিক বৈঠকে তারা এই বিষয়ে সম্মত হননি। যদিও পিটিএ’র অধীন নিবন্ধিত মামলা এখন কমে আসছে বলে তিনি স্বীকার করেছেন, তবে জাতিসংঘের এই প্রতিনিধি পিটিএ’র অধীনে “মানবাধিকারের অব্যাহত লঙ্ঘন” ঘটছে এমন দাবীতে অটল ছিলেন।

তিনি বলেন, ২০১৫ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে (ইউএনআরসি) নেওয়া একটি উদ্যোগে সম্মতি দেওয়া সত্ত্বেও লংকান সংবিধানে পিটিএ রয়ে গেছে। এখানে তিনি উল্লেখ করেন যে, নতুন সন্ত্রাস বিরোধী আইনের খসড়ায় তদন্তের সময় পুলিশ অফিসারের কাছে করা স্বীকারোক্তির গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখা হয়েছে। অথচ পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি সাধারণত নির্যাতনের মাধ্যমে পাওয়া যায় বলে তা গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিৎ নয়।

তিনি আরো বলেন, সন্ত্রাস বিরোধী আইন আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হতে হবে যেখানে  পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির গ্রহণযোগ্যতা বাতিল করা হয়েছে। নাম উল্লেখ না করে জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা বলেন, নিরাপত্তা খাতে এমন ‘কিছু কায়েমি স্বার্থ’ আছে যারা পরিবর্তনের বিরোধী এবং সর্বোপরি দায়বদ্ধতারও তারা বিরোধিতা করে।

সরকারের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করে বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে “নিষ্ক্রিয়তার” অভিযোগ তুলে তিনি দাবী করেন যে,  বর্তমান সরকার সশস্ত্র বাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য যারা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িয়ে পড়েছিলেন তাদের দায়বদ্ধ করার জন্য প্রায় কিছুই করেনি।

পিটিএ ব্যবস্থাকে ‘নিষ্ঠুর ও অন্যায়’ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, এই আইন তামিল সম্প্রদায়কে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেছে এবং অথচ মাত্র ৭১জন পুলিশ কর্মকর্তাকে নির্যাতনের জন্য দায়ী করা হয়েছে। পিটিএ’র অধীনে আটক বন্দীদের জামিনে মুক্তি দিতে বা বিচার প্রক্রিয়া প্রসন্ন করার জন্য তিনি সরকারকে আহ্বান জানান। ৮১ জন আটক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মধ্যে ৭০ জনকে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে আটক রাখা হয়েছে এবং ১১ জনকে ১০ বছর ধরে আটক রাখা হয়েছে।

জাতিসংঘের রেপোটিয়ার এসএলএফপি এবং ইউএনপি’র ঐক্য সরকারের মধ্যে চলমান উত্তেজনার ব্যাপারে পরোক্ষ মন্তব্য করে বলেন যে, তিনি মনে করেন প্রধানমন্ত্রী রণিল বিক্রমাসিংগে  যুদ্ধের জবাবদিহিতার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রতিশ্রুতভাবে এগিয়ে যাওয়া ‘প্রকৃত’ আগ্রহ দেখিয়েছেন। কিন্তু সরকারের ভিতরে এবং বাইরের ‘পশ্চাৎমুখী একটি গোষ্ঠী’ একে প্রতিরোধ করছে।

print
শেয়ার করুন