চীন সফরে যেতে পারেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল

চীন সফরে যেতে পারেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন
অজিত দোভাল

চীনের সঙ্গে সীমান্ত বিতর্কের মধ্যেই বেইজিং যাচ্ছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। বেইজিং-এ ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা (ব্রিকস)-এর জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির(এনএসএ) বৈঠক উপলক্ষে দোভালের এই সফর।  আগামী ২৬ জুলাই এই বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি।  ভারত-চীন সীমান্ত আলোচনায় ভারতের বিশেষ দূত হিসাবে কাজ করছেন দোভাল। তার সফরের সময় আলাদা বৈঠকে চীনের সাথে সিকিম এলাকার দোকলাম বিতর্ক নিয়েও আলোচনা হতে পারে।  চীনের স্টেট কাউন্সিলর ইয়াং জিচুহ এ বৈঠকের আয়োজন করেন। অজিত দোভাল ও ইয়াং জিচুহ দু’জনেই নিজ নিজ দেশের সীমান্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনায় বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত।

ভারত-চীন-ভুটানের সীমান্তের সংযোগস্থল দোকলামে গত তিন সপ্তাহ ধরে অচলাবস্থা চলছে। ওই এলাকায় চীন সড়ক নির্মাণের চেষ্টা করলে তাতে বাধা দেয় ভারতীয় সেনারা।  বৃহস্পতিবার সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে তাদের দ্বিতীয় আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ভারত বলেছে, দোকলাম সমস্যার সমাধানে চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহার করা হবে। তবে এক্ষেত্রে কোনো রকম আপস করা হবে না বলেও জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, দোকলাম সমস্যা চলাকালেই চলতি মাসের গোড়ায় জার্মানির হামবুর্গে জি-২০ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিংয়ের কথা হয়েছিল। নয়াদিল্লী জানিয়েছে যে, গত সপ্তাহে জার্মানির শহর হামবুর্গে জি-২০ সম্মেলনের ফাঁকে ব্রিকস নেতাদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ‘বিভিন্ন বিষয়’ নিয়ে আলোচনা করেছেন। যদিও চীন সরকার বলেছে, দুই নেতার মধ্যে কোন আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি।

বৈঠকে শি জিনপিংয়ের কাছে মোদি কি সীমান্তে অচলাবস্থা তুলে ধরেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গোপাল ভাগলে বলেন, ‘বিভিন্ন বিষয়’ নিয়ে কথোপকথনের মধ্যে কি কি থাকতে পারে, তা আপনাদের অনুমান শক্তি ও সাধারণ জ্ঞানের ওপর ছেড়ে দিলাম। আপনারাই বুঝে নেবেন কি ঘটেছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গোপাল ভাগলে খোলাসা করে কিছু বলেননি।

দোভালের চীন সফর নিয়ে ইতিমধ্যেই বেশ আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে, ভারতের আঞ্চলিক স্বার্থের সাথে তিনি আপোষ করবেন না এরকম একটি অবস্থান আছে তার। চীন বা পাকিস্তান এর সাথে দেশটির আঞ্চলিক স্বার্থ সম্পর্কে তার মতামত এখন ‘দোভাল ডকট্রিন’ নামে পরিচিত। তিনি ভালভাবেই সচেতন যে সামরিক বাহিনীর শক্তির দিক থেকে ভারতের চেয়ে চীন অনেক আগানো। তবে তিনি স্পষ্ট করেই বলেছেন যে ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতার দিক দিয়ে চীনের অবস্থান তুলনামূলকভাবে দুর্বল । তাই ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার দ্রুত উন্নয়নের দিকে জোর দেওয়া উচিৎ একথা  তিনি সবসময়ই বলেন। তিনি বলেন, যদিও চীনের সাথে সম্পর্ক ভারতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, সার্বভৌমত্ব সংক্রান্ত বিষয়গুলিতে কোন আপস করা যাবে না।

একটি নিরাপত্তা সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন যে, চীনের সাথে ভারত ভাল সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইবে যতদিন পর্যন্ত আমাদের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব এবং সততা সংকটাপন্ন না হয়। চীনের এই সফরে তার কট্টরপন্থী মনোভাব এবং কূটনীতির দক্ষতা উভয়ের একটি মিশ্রণ দেখা যেতে পারে।