চীন নিয়ে আগ্রাসী রণকৌশল থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেল দিল্লি

চীন নিয়ে আগ্রাসী রণকৌশল থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেল দিল্লি

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

চাপের মুখে চীন নিয়ে আগ্রাসী রণকৌশল থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে শেষ পর্যন্ত আলোচনার পথেই হাঁটতে চলেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। চলতি সঙ্কট নিরসনে আগামী সপ্তাহে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালকে সঙ্গে নিয়ে বেজিং যাচ্ছেন বিদেশসচিব এস জয়শঙ্কর

আনন্দ বাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বিজয় কেশব গোখলে চীনা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে যৌথ এক বিবৃতির খসড়া তৈরি করেছেন। ইতিমধ্যে দুপক্ষে কূটনৈতিক দৌত্য শুরুও হয়ে গিয়েছে। এই বিবৃতিতে এক দিকে ভারত বলবে, ভুটানের ডোকা লাতে সম্প্রতি পাঠানো অতিরিক্ত সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে ভুটানের স্থিতাবস্থা রক্ষার প্রস্তাব মেনে চীনও অতিরিক্ত সেনা প্রত্যাহার করে নেবে। আবার আলোচনার মাধ্যমে বিতর্কের নিরসন ঘটানোর ব্যাপারে দায়বদ্ধতা প্রকাশ করে দুদেশই তাদের নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগকে গুরুত্ব দেবে। ভারত অবশ্য এই প্রস্তাবে চীনের কাছ থেকে একই সঙ্গে আশ্বাস চাইবে যে, ডোকা লা সড়ক নির্মাণ করবে না তারা। ডোভাল তো চাপ বাড়াতে এই প্রস্তাবও রাখতে চান, যাতে বলা হবে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সিল্ক রুটের নামে সড়ক বানানোর কাজ শুরু করবে না চীন

চীনা মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী এসবের কোনটাতে সাড়া পাবার আশা নেই দিল্লির। ইতিমধ্যে তারা বলে দিয়েছে যে ডোকলাম নিয়ে আলোচনার কোন অবকাশ নেই, চিহ্নিত সীমানাই সেখানকার বটম লাইন।

দিল্লির বিদেশ মন্ত্রকের একটি অভিমত হল, বারের সফরে বিতর্ক নিরসনকে ভুটানকেন্দ্রিক রাখাই ভাল। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের প্রসঙ্গ আনলে চীন আবার অরুণাচলকে টেনে আনতে পারে। সে ক্ষেত্রে আলোচনা ভেস্তে যেতে পারে। বরং যাত্রা আলোচনা সফল হলে আকসাই চিন, অরুণাচলপ্রদেশের একাংশ অন্য বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা শুরু করা যেতে পারে

ভারতের বিদেশ মন্ত্রক বলছে, গত দুদিনের সর্বদলীয় বৈঠক খুবই ইতিবাচক আবহে হয়েছে। যদিও কূটনীতিকদের মতে এর আসল কারণ হল, চাপের মুখে চীন নিয়ে তাঁর আগ্রাসী একলা চলো রে নীতি সম্পূর্ণ বদলে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন মোদী। তাই দুদিন ধরে সর্বদলীয় বৈঠকে ঐকমত্য রচনায় সচেষ্ট তিনি। যাতে সোমবার থেকে শুরু হতে চলা সংসদ অধিবেশনে চীন নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনাকে কিছুটা লঘু করে দিতে পারে কেন্দ্র। বলতে পারে, গণতান্ত্রিক কারণেই চীনের সঙ্গে আলাপআলোচনার পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

সেপ্টেম্বরে ব্রিকস বৈঠকে যোগ দিতে চীনে যাওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। উত্তেজনার পারদ এতটাই চড়েছিল যে, ট্র্যাকটু চ্যানেলের মাধ্যমে বৈঠক বাতিলের হুমকি পর্যন্ত দিয়েছিল চীন। দ্বিপাক্ষিক সংঘাতের জন্য একটি বহুপাক্ষিক বৈঠক বাতিল হওয়া ভারতের পক্ষে ভাল হতো না। অন্যান্য প্রতিবেশী রাষ্ট্র, এমনকী ভুটানেও চীনের প্রভাব ক্রমবর্ধমান। দেশটি ভারত ও চীন দুদেশকেই ডোকলাম থেকে সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে চিঠি দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিদেশসচিবের চীন সফরে বিরোধীরাও মনে করছেন, রাজীববাজপেয়ীর কূটনীতির রাস্তাতেই হয়তো ফিরে আসছেন নরেন্দ্র মোদী

 

শেয়ার করুন