সমঝোতা স্মারক নিয়ে শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশের যৌথ বিবৃতি

সমঝোতা স্মারক নিয়ে শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশের যৌথ বিবৃতি

কলম্বো প্রতিনিধি,
শেয়ার করুন

বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই অবাধ বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সই করবে। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মত্রৈপিালা সিরিসেনার তিন দিনের সফর শেষে প্রকাশিত যৌথ ঘোষণায় দুই দেশ যে ১৪টি সমঝোতা স্মারকে সই করেছে, তাতে এই প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ রয়েছে। দুই দেশ আইটি, ব্যাংকিং এবং জাহাজ চলাচলবিষয়েও সমঝোতা স্মারকে সই করেছে।

দুই দেশ তাদের যৌথ বিবৃতিতে জানায়, উভয় দেশ তৈরী পোশাক, ওষুধসহ বিভিন্ন খাতে বেসরকারি ও সরকারি উদ্যোগে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করবে। বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানায়, অনেক শ্রীলঙ্কান বাংলাদেশ কাজ করছে। তারা দক্ষিণ এশিয়া অ লের একক বৃহত্তম শ্রমিক গ্রুপ হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেছে। বাংলাদেশও শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশীদের জন্য একই ধরনের সুবিধা চাচ্ছে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মত্রৈপিালা সিরিসেনা পারস্পরিক কল্যাণকরভাবে উভয় দেশের নাগরিকদের চলাচলের সুবিধা গ্রহণ করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণে একমত হন। দুই নেতা ঘোষণা করেন, তারা দক্ষিণ এশিয়া সহযোগিতা বৃদ্ধি, সার্ক এবং বিমস্টেকের মতো আ লিক সংস্থা জোরদার করার জন্য একসাথে কাজ করবে।

১৪ দফা সমঝোতা স্মারকের পথ ধরে চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই দুই দেশ অবাধ বাণিজ্য চুক্তিতে সই করবে। কৃষি, মৎস, গবাদি পশু, বস্ত্র, রতœপাথর ও অলংরকার, ধর্মীয় ও ইকো-পর্যটন, স্বাস্থ্যব্যবস্থাপনা, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও জাহাজ চলাচল খাতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

দুই দেশ বিশেষ শিল্প ও অর্থনৈতিক জোনে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে। এতে বিনিয়োগ, দ্বৈত কর এড়ানো ইত্যাদি ব্যাপারে একমত হয় দুই পক্ষ।
শ্রীলঙ্কা এখন ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগে পতিত হচ্ছে। এই ক্ষতি কমিয়ে আনতে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ব্যাপারে শ্রীলঙ্কা আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা এবং সেইসাথে খরা ও বন্যার বাধা মোকাবিলা করে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর জ্ঞান বিনিময়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

দুই দেশ স্বীকার করে, তাদের মধ্যে যে পরিমাণ বাণিজ্য হওয়ার কথা, তার চেয়ে অনেক কম হচ্ছে। তারা এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে একমত হয়েছেন। বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের নিবন্ধন-প্রক্রিয়া যত দ্রুত সম্ভব শিথিল করার জন্য শ্রীলঙ্কাকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

শেয়ার করুন