মালদ্বীপে এমপিদের পক্ষ-ত্যাগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আদেশে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

মালদ্বীপে এমপিদের পক্ষ-ত্যাগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আদেশে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

এমপিদের নিজ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার বিরুদ্ধে মালদ্বীপ সুপ্রিম কোর্ট একটি ‘বিতর্কিত রায়’ দেয়ার পর দেশটির বিরোধী দল স্পিকারকে হটিয়ে পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ লাভের যে উদ্যোগ নিয়েছিলো তার ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

চারদলীয় বিরোধী জোটের এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, আদালতের এই আদেশ পার্লামেন্টে অনাস্থা উদ্যোগ প্রতিহত করতে প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ ইয়ামিনের একটি ইচ্ছাকৃত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত একটি প্রচেষ্টা। ক্ষমতা ধরে রাখতে ও পার্লামেন্টে বিরোধীদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রতিহত করতে নির্বাহী বিভাগ কিভাবে বিচারবিভাগকে ম্যানিপুলেট করছে তারও একটি শোচনীয় উদাহরণ এটি।

সরকার পার্লামেন্টে কোন এমপির আসন বাতিল করলে তাকে পুননির্বাচিত করতে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন বলে সাবেক দুই প্রেসিডেন্ট মামুন আব্দুল গাইয়ুম ও মোহাম্মদ নাশিদ জুমহুরি পার্টি ও আদালত পার্টির সঙ্গে গত মার্চে এক এক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

মামুন আব্দুল গাইয়ুম বলেন, জনগণের পক্ষে কাজ করতে গিয়ে কেউ আসন হারালে তাকে পুননির্বাচিত করতে আমি কাজ করবো।

তিনি স্পিকারের বিরুদ্ধে ভোটদানের জন্য আসন হারানোর ভয় না করতে এমপিদের আশ্বস্ত করে বলেন, আল্লাহর রহমতে আপনারা আবার আসন ফিরে পাবেন। আমরা আপনার আসন ফিরিয়ে দিতে কাজ করবে।

এদিকে সরকারের মন্ত্রী ও এমপিরা আদালতের আদেশকে গণতন্ত্রের বিজয় হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং তারা এমপিদের পক্ষত্যাগ বন্ধ হয়েছে বলে উল্লাস প্রকাশ করেন।

আদালতের আদেশ প্রকাশের পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা আহমেদ নিহান বিক্ষুব্ধ এমপিদের দলে ফিরে আসার জন্য বলেন।
আদালতের কাছে এটর্নি জেনারেল পক্ষ-ত্যাগ বিরোধী আদেশ চাওয়ার পর ক্ষমতাসীন প্রগ্রেসিভ পার্টি অব মালদ্বীপ (পিপিএম)’র ১০ এমপি বিরোধী পক্ষে যোগ দেন। কিন্তু ইথিকস কমিটির অনুসন্ধানের অযুহাত দেখিয়ে পিপিএম’র সচিবালয় এমপিদের পদত্যাগপত্র গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়।

সুপ্রিম কোর্টের আদেশে বলা হয়, কোন রাজনৈতিক দলের টিকেটে নির্বাচিত এমপি দল ত্যাগ বা দল থেকে বহিস্কৃত হয়েছেন বলে নির্বাচন কমিশন যদি পার্লামেন্টেকে অবহিত করে তাহলে ওই এমপি তার আসন হারাবে। তবে, ওই এমপি তার শূন্য আসনে ফের নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।

তবে আসন হারানোর হুমকি থাকার পরও ক্ষুব্ধ এমপিরা তাদের ভিন্নমত প্রকাশ এবং স্পিকার আব্দুল্লাহ মাসিহ মোহাম্মদের বিরুদ্ধে ভোট প্রদানের অঙ্গীকার করেন।