শ্রীলংকার ক্ষমতাসীন জোটে ভাঙ্গন ঠেকাতে ব্যস্ত প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা

শ্রীলংকার ক্ষমতাসীন জোটে ভাঙ্গন ঠেকাতে ব্যস্ত প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

বাংলাদেশে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় সফর থেকে দেশে ফিরতে না ফিরতেই ক্ষমতাসীন দলে পক্ষ-ত্যাগের হুমকির সম্মুখিন হয়েছেন শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট মৈত্রিপালা সিরিসেনা। এই হুমকি সামাল দিতে ব্যর্থ হলে ইতোমধ্যে নাজুক হয়ে পড়া কোয়ালিশন সরকারে ভাঙ্গন দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এক সপ্তাহ আগে দুই মন্ত্রীকে দায়িত্ব পালন বা পদত্যাগের আহ্বান জানানোর পর প্রেসিডেন্ট নিজেই এবার শ্রীলংকা ফ্রিডম পার্টি (এসএলএফপি)’র কাছ থেকে জোট ভেঙে দেয়ার নোটিশ পেয়েছেন। তা না হলে ব্যাপকভাবে পক্ষ-ত্যাগের ঘটনা ঘটবে বলে সতর্ক করে দেয়া হয়।

বাংলাদেশের সফরে যাওয়ার আগে এক বৈঠকে এসএলএফপি’র বেশকিছু সিনিয়র নেতা স্থানীয় নির্বাচনের আগে জোট ভেঙ্গে দিয়ে দলীয় সরকার গঠনের পরামর্শ দেন। চলতি বছরের শেষ দিকে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

২০১৫ সালের আগষ্টে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এসএলএফপি ও তার মিত্ররা ৯৪টি আসন পায়। তবে দলটিতে সিরিসেনা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসার নেতৃত্বে দুটি গ্রুপ রয়েছে। কিন্তু সিরিসেনা ও রাজাপাকাসার মধ্যে পুরোদস্তুর আপোস হলেও ২২৫ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য আরো ১৯ এমপি’র সমর্থন প্রয়োজন।

অন্যকেউ সিরিসেনা-রাজাপাকসাকে সমর্থন না দিলে তাদেরকে ইউএনপি’র এমপিদের নিয়ে আসার চেষ্টা করতে হবে। কাজটি কঠিন হলেও ওই দলে অসন্তোষ রয়েছে।

এসএলএফপি’র একটি সূত্র জানায়, গত ৪ জুলাই প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা ইউএনপি’র দুই মন্ত্রী সাগালা রত্নায়েক ও বিজয়াদাসা রাজাপাকসেকে তাদের বিগত তিন মাসের কার্যক্রম স্পষ্ট করতে বলেন। তাদের কার্যক্রমের কারণে পুরো ইউএনপি’র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও সরকার থেকে বহিস্কারের দাবি উঠেছে।

এসএলএফপি’র সিনিয়র নেতাদের দাবি সিরিসেনা যেন ২০০৪ সালে প্রেসিডেন্ট চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গা রানিল বিক্রমবিঙ্ঘের ইউএনপি-নেতৃত্বাধিন সরকারের সঙ্গে যেরকম আচরণ করেছে সেরকম আচরণ করেন। ছয় বছর মেয়াদের দুই বছরের মাথায় বিক্রমাসিঙ্ঘে সরকারকে ভেঙে দিয়েছিলেন কুমারাতুঙ্গা। এরপর নতুন নির্বাচন দেয়া হলে জেভিপি’র সমর্থনে কুমারাতুঙ্গার দল জয়ী হয়।

সংবিধানের ঊনবিংশ সংশোধনী অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা ২০২০ সালের আগে বর্তমান সরকার ভেঙে দিতে পারবেন না। কুমারাতুঙ্গা নিজের যোগ্যতায় ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এলেও সিরিসেনাকে ইউএনপি’র ভোটের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে হয়েছে।

আগামী সেপ্টেম্বরে ইউনিটি সরকারের দুই বছরের ‘এমওইউ’ মেয়াদ শেষ হলে সরকার ত্যাগ করবেন বলে এসএলএফপি’র এক ডজনের বেশি মন্ত্রী ও এমপি হুমকি দিয়েছেন।