আইএস দমনে ফাটা এলাকায় পাকিস্তানের সর্বাত্মক অভিযান শুরু

আইএস দমনে ফাটা এলাকায় পাকিস্তানের সর্বাত্মক অভিযান শুরু

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

পাকিস্তানের খাইবার জেলার রাজগাল উপত্যকায় আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় “সন্ত্রাসীদের নিশ্চিহ্ন করার” জন্য অভিযান শুরু করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। জেলাটি পাকিস্তানের ফেডারেল প্রশাসিত আদিবাসী এলাকার (ফাটা) অংশ। সেনা মুখপাত্রের মতে অঞ্চলটিতে দায়েশ শক্তিশালী হয়ে উঠছে এবং তা দমিয়ে রাখতেই এই অভিযান। অপারেশনটি  খাইবার-৪ এর  প্রায় ২৫০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে হবে, যেখানে দায়েশ এর সমর্থনকারী দলগুলো ঘাটি গেঁড়ে বসেছে। এদের মধ্যে আছে জামায়াতুল আহরার এবং লস্কর-ই-ঝংভি এবং পাকিস্তানের তালেবান গোষ্ঠী।  পাকিস্তানি ইন্টার সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আসিফ গফুর রোববার বলেন “এটি [ফাটার] সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।”

ডন নিউজ এজেন্সির কাছে তিনি বলেন, সীমান্তে দায়েশের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে, “রাজগাল উপত্যকার মাধ্যমে পাকিস্তানের সীমান্তে প্রবেশ করা দায়েশের প্রভাবকে রোধ করার জন্য এই অপারেশন প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।”

তবে পাকিস্তানের দায়েশের কোনো সংগঠিত উপস্থিতি রয়েছে এই ধারণা তিনি প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, “আমরা তাদের প্রতিষ্ঠা পেতে দেব না। হ্যাঁ, আফগানিস্তানে এটি শক্তিশালী হচ্ছে,  কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি না যে এটি মধ্যপ্রাচ্যের দায়েশের মতো বড় হতে পেরেছে বা পারবে।”

তিনি বলেন, পাকিস্তানে,  জামায়াত-উল-আহরার তাদের সাথে একাট্টা প্রকাশ করেছে। সংগঠন হিসেবে দায়েশ এখানে নেই তবে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান এবং অন্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও বিচ্ছিন্ন দলগুলি দেশে দায়েশের পথ অনুসরণ করতে চায়। আমরা ইতোমধ্যে খাইবার -৪ অপারেশন এবং অন্যান্য উপায়ে তাদের মোকাবেলা।

গফুর বলেন, যদিও আফগান বাহিনীকে জানানো হয়েছে এবং আফগানিস্তান তাদের সীমান্তের নিকটবর্তী অপারেশনে সহায়তা করতে পারে,  তবে এই অভিযান পুরোপুরি পাকিস্তানের একটি আভ্যন্তরীণ ব্যাপার। তিনি বলেন, “আমাদের দেশের মাটিতে অন্য কোন বাহিনীর বুট পরবে না। সব অপারেশন পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে রয়েছে।”

গফুর বলেন, “যদি আফগান সেনাবাহিনী পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মতো ক্ষমতাশালী হত,  তাহলে সম্ভবত [সন্ত্রাসের] সমস্যাটি শীঘ্রই সমাধান করা যেত,”

পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদকে ধ্বংস করে দেয়ার জন্য একটি বড় অভিযানের মধ্যে আছে যাকে অপারেশন রাদ-উল-ফাসাদ বলা হচ্ছে। খাইবার -৪ এই অপারেশনের অধীনে পড়ে এবং এর পাশাপাশি আফগানিস্তান ও ইরানের সীমান্তে একটি বৃহৎ প্রকল্প তৈরি করা হচ্ছে। রাদ-উল-ফাসাদ এর আওতায় এখন পর্যন্ত ৪৬টি বড় অপারেশন হয়েছে। গফুর উল্লেখ করেছেন,  পুলিশ ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে সমন্বয় সাধন করে ১৭৬০টিরও বেশি যৌথ চেকপোস্ট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

গফুর বলেন “আমরা পাকিস্তানকে স্বাভাবিক অবস্থার ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমর্থন নিয়ে কাজ করছি।”

SOURCEস্পুটনিক
শেয়ার করুন