দোকলাম চীনের অংশ বলে স্বীকার করেছে ভুটান, চীনা কর্মকর্তার দাবী

দোকলাম চীনের অংশ বলে স্বীকার করেছে ভুটান, চীনা কর্মকর্তার দাবী

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

এক সিনিয়র চীনা কর্মকর্তা গত মঙ্গলবার দাবী করেছেন যে দোকলামের যেই এলাকাতে ভারতীয় এবং চীনা সৈন্য মুখোমুখী অবস্থানে আছে সেই এলাকা ভুটানের অশ নয় বলে স্বীকার করেছে ছোট এই দেশটি। চীনের শীর্ষ কূটনীতিক, ওয়াং ওয়েনলি,  একটি ভারতীয় গণমাধ্যম প্রতিনিধিদলকে বলেছেন যে, ভুটান কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে বেইজিংকে জানিয়ে দিয়েছে যে, অচলাবস্থার মধ্যে থাকা এলাকাটি তাদের অংশ নয়। তবে তিনি এই দাবির জন্য কোন প্রমাণ প্রদান করেননি এবং এই দাবী  ভুটানের আগের বিবৃতি এবং কাজের বিপরীত মনে বলে হয়। চীনা সৈন্যরা ১৬ জুন দোকলাম এলাকায় রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করলে ভুটানের সরকার চীনা সরকারকে প্রতিবাদ জানিয়েছিল এবং তারা দ্বিপক্ষীয় চুক্তি লঙ্ঘনের করেছে বলে অভিযোগ করে।

কিন্তু চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সীমানা এবং মহাসাগরীয় অঞ্চল বিভাগের উপ মহাপরিচালক ওয়েনলি বলেন, “ ঘটনার পরে ভুটানীরা আমাদের কাছে খুব স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে বিতর্কিত স্থানটি ভুটানের ভূখন্ড নয়।”  তিনি আরও বলেন “ভুটানিজরা এটা খুব অদ্ভুত মনে করে যে ভারতীয় সীমান্তবাহিনী চীনা মাটিতে রয়েছে।”

ওয়েনলি বলেন, তিনি ভুটানের রাষ্ট্রীয় প্রচার মাধ্যম এবং আইনী ব্লগগুলির থেকে এই মতামতগুলো তুলে ধরছেন এবং সেখানে “আরো দৃঢ় তথ্য” রয়েছে।

৩০ জুন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “ ১৬ ই জুন, পিএলএ (পিপলস লিবারেশন আর্মি)এর একটি নির্মাণ দল দোকলাম এলাকায় প্রবেশ করে এবং একটি রাস্তা নির্মাণ করার চেষ্টা। আমাদের জানা মতে, এরপর ভুটান সেনাবাহিনীর একটি পেট্রোল এই একতরফা কার্যকলাপ থেকে বিরত করার চেষ্টা করে। ”

ভারত ভুটানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃত করে আরও জানায় “”ভুটানি অঞ্চলের ভিতরে রাস্তার নির্মাণ ভুটান ও চীন মধ্যে ১৯৮৮ এবং ১৯৯৮ সালের চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন এবং এই দুই দেশের মধ্যে সীমানা নির্ধারণ  প্রক্রিয়া প্রভাবিত করে। তারা জুন ১৬, ২০১৭ এর আগের স্থিতাবস্থায় ফিরে আসার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

ভারত সরকার চীনা সরকারকে জানায় যে, সড়ক নির্মাণ এই অঞ্চলের স্থিতাবস্থার একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন করবে এবং ভারতের জন্য নিরাপত্তায় গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। ভারত বলছে যে, কোনও আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য উভয় পক্ষকেই তাদের সৈন্য প্রত্যাহার করতে হবে।

ওয়াং বলেন, ভুটান তার এলাকা থেকে ভারতীয় ও চীনা উভয় পক্ষের দ্বারা পরিচালিত কাজ পর্যবেক্ষণ করছে। চীনের সঙ্গে ভুটানের সরাসরি কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই এবং তারা দিল্লিতে কূটনৈতিক মিশনের মাধ্যমে বেইজিংয়ের সাথে যোগাযোগ রাখেন।

ভুটান ও চীন সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য এখন পর্যন্ত ২৪ দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত করেছে এবং ভারত ও চীন ১৯ দফা আলোচনা সম্পন্ন করেছে। ওয়াং বলেন, চীনের সাথে সীমান্ত থাকা ১৪ টি দেশের মধ্যে শুধু ভারত ও ভুটান এই দুটি দেশের সাথেই চীনের সীমান্ত বিরোধ এখনও নিষ্পত্তি হয়নি।

SOURCEপিটিআই
শেয়ার করুন