মালদ্বীপঃ রাজনৈতিক অস্থিরতায় হুমকির মুখে “স্বর্গ দ্বীপ”

মালদ্বীপঃ রাজনৈতিক অস্থিরতায় হুমকির মুখে “স্বর্গ দ্বীপ”

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

গত মাসের শেষের দিকে ব্রিটেন থেকে স্বাধীনতার পর ৫২ বছর পূর্তি উদযাপন করেছে মালদ্বীপ। কিন্তু সরকার যখন পিপলস মজলিস (দেশটির সংসদ) থেকে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের বের করে আনার জন্য এবং পুনরায় প্রবেশে বাঁধা দেওয়ার জন্য সৈন্যদের আদেশ দেয়, তখন এই  উত্সব অনেকটাই নিষ্প্রাণ ও থমথমে হয়ে যায়। প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পরে দেশটির শীর্ষপদে টিকে থাকার জন্য এটি ছিল তার সর্বশেষ নাটকীয় প্রচেষ্টা যাতে গ্রীষ্মমন্ডলীয় দেশটির রাজনীতির খেলায় নতুন একটি কাহিনী যুক্ত হল। রাজনৈতিক নাটকগুলি মালদ্বীপের বিশ্বখ্যাত সমুদ্র সৈকতে হচ্ছে না, হচ্ছে রাজধানী মালেতে যেখানে মালদ্বীপের প্রধান প্রতিষ্ঠানগুলি অবস্থিত এবং যা পৃথিবীতে সবচেয়ে ঘন জনবহুল শহরগুলির মধ্যে একটি।  ৩০ বছর ধরে দেশটি এক স্বৈরশাসকের হাতের মুঠোয় ছিল, তথাকথিত লৌহমুষ্টিতে শাসন করেছেন মামুন আবদুল গাইয়ুম।

২০০৮ সালে দেশটির প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনে এক তরুণ প্রগতিশীল ও ক্যারিজম্যাটিক মানবাধিকার নেতা মোহাম্মদ নাশিদ ক্ষমতায় আসেন। একটি আদর্শ ইসলামী গণতন্ত্র হিসেবে মালদ্বীপের সময় ছিল সংক্ষিপ্ত। চার বছরেরও কম সময়ের মধ্যে, পুলিশে এক বিদ্রোহের পর নাশিদ পদত্যাগ করেন। ২০১৩ এর নভেম্বরে আবদুল্লাহ ইয়ামিন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, কিন্তু এটাকে তার সৎ ভাই মামুন গাইউমের পুরানো শাসন আমলের প্রত্যাবর্তনের মতই লাগছিল। তবে  গত বছরের শেষের দিকে এই দুই শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের সম্পর্কে একটি দৃশ্যমান অবনতি ঘটেছে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয় যে মামুন গাইয়ুম শেষ পর্যন্ত নাশিদের দলে ভিড়তে বাধ্য হন। যাইহোক এই অদ্ভুত জোটের মাধ্যমে তৈরি বিরোধী দল মালদ্বীপের সংসদে একটি স্বল্প ব্যবধানের সংখ্যাগরিষ্ঠ লাভ করতে সক্ষম হয়েছিল।

তারা পরিকল্পনা করছিল – একটি অভ্যুত্থান করার কিন্তু সেটা হবে গণতান্ত্রিক মঞ্চে। তারা দেশের সংসদের স্পিকারের বিরুদ্ধে একটি অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করে। তাদের পরিকল্পনা ছিলো যে স্পিকারকে প্রতিস্থাপন করে বিরোধীদলীয় কাউকে এনে আগামী বছরের শুরুতে নির্বাচনের আগে একটি জরুরী সরকার আনা।

আক্ষরিক অর্থেই ইয়ামিন তার নিরাপত্তা  বাহিনী নিয়ে না আসা পর্যন্ত এটি সফল হওয়ার সম্ভাবনা ছিল । তারা ভোটের জন্য সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে, যার ফলে তাদের পরিকল্পনায় স্থগিত হয়ে যায়। তারপর থেকে ইয়ামিন সংসদে নানা ভাবে বিরোধী দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। এ জন্য সংসদ সদস্যদের গ্রেফতার করে এবং ক্ষমতাসীন দল থেকে বেরিয়ে যাওয়া এমপিদের পদত্যাগ করতে বাধ্য করার কৌশল নেয়া হয়েছে।

যদি আপনি ভাবেন যে কেন এই নাটক নিয়ে আপনি মাথা ঘামাবেন, আপনার তাহলে জেনে রাখা ভাল হবে যে মালদ্বীপ একটি বড় কৌশলগত ক্ষমতার খেলার কেন্দ্রে রয়েছে। দেশটির ১০০০-এরও বেশি দ্বীপপুঞ্জ ভারতীয় মহাসাগরে ৮০০ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত।

এটি আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বের খেলায় মালদ্বীপকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে পরিণত করতে পারে  যার ফলস্বরূপ বিশ্ব অর্থনীতির আকৃতি বছরের পর বছর প্রভাবিত হতে পারে।

print
শেয়ার করুন