শ্রীলঙ্কার সংবিধান সংশোধন সমর্থন করবে না তামিল ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স

শ্রীলঙ্কার সংবিধান সংশোধন সমর্থন করবে না তামিল ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

তামিল ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স (টিএনএ) শুক্রবার ঘোষণা করেছে যে, তারা বর্তমান অবস্থা থেকে কোন পরিবর্তন না হলে সংবিধানের ২০তম সংশোধনীকে সমর্থন করবে না। দলের শীর্ষ মুখপাত্র ও জাফনা জেলার এমপি এম.এ. সুমান্থিরান আইল্যান্ডকে একথা জানান। টিএনএ সংসদীয় দলে মোট ১৬জন সদস্য আছে, যার মধ্যে দুইজন  জাতীয় তালিকাভুক্ত সংসদ সদস্য।

টিএনএ এর চারদলীয় জোট প্রাদেশিক কাউন্সিলের ক্ষমতা সংসদে ন্যস্ত হবে এমন ব্যবস্থা সম্বলিত ২০ তম সংশোধনী নিয়ে সরকারের সাথে আলোচনা করবে কিনা জানতে চাইলে সুমান্থিরান বলেন, কোন পরিস্থিতিতেই এই সংশোধনীর পরিবর্তন ছাড়া আলোচনায় যাওয়া হবে না। তার কারণ হল এতে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সকল রাজনৈতিক দলের বোঝাপড়ার প্রতিফলন নেই। প্রস্তাবিত ২০ তম সংশোধনী অনুসারে সমস্ত প্রাদেশিক কাউন্সিলের নির্বাচন একযোগে অনুষ্ঠিত হবে এবং সংসদকে সকল প্রাদেশিক কাউন্সিলের বিলুপ্তির তারিখ নির্ধারণ করার ক্ষমতা দেওয়া হবে।

অ্যাটর্নি-এট-ল সুমান্থিরান জোর দিয়ে বলেন যে, সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনার ঐক্যমত অনুসারে বিলটি প্রস্তুত করে ইচ্ছা করলেই অপ্রয়োজনীয় সমস্যা থেকে দূরে থাকতে পারত ।

তামিল ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স চারটি তামিল দল নিয়ে গঠিত- এগুলো হল তামিল আরসু কাদচি (আইটিএকে), পিএলওটিই,  টেলো এবং ইপিআরএলএফ।

আইটিএকের এই নেতৃস্থানীয় এমপি সুমান্থিরান ব্যখ্যা করেন যে, সংসদে প্রতিনিধিত্বমূলক রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনা সভায় তর্ক-বিতর্কে পর ৬০:৪০ মিশ্র সদস্য আনুপাতিক (এমএমপি) ব্যবস্থায় প্রাদেশিক কাউন্সিল নির্বাচনের ব্যাপারে সিদ্ধান্তে আসে।

সুমান্থিরান বলেন, ঐক্যবদ্ধ নির্বাচনী প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা সম্পর্কে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আগে কোন মতৈক্য ছিল না। এক প্রশ্নের উত্তর সুমান্থিরান বলেন, প্রাদেশিক কাউন্সিলের বিষয়ে ৬০:৪০ এমএমপি পদ্ধতির প্রয়োগের আগে সংসদীয় ও স্থানীয় সরকার উভয় নির্বাচনের জন্য একই সূত্র গ্রহণ করতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতির বিষয়টি পরীক্ষা করা উচিত।

সংবিধান প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় পরিচালিত স্টিয়ারিং কমিটিতে এমপি বলেন, সম্মিলিত সূত্র অনুসারে ৬০ শতাংশ সদস্য নির্বাচিত হবে এবং ৪০ শতাংশ সদস্য দলের তালিকা থেকে আসবে।

রাজনৈতিক সূত্র জানায়,  ক্ষমতাসীন ইউএনপি-এসএলএফপি সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারবে না যদি টিএনএ তাদের সমর্থন না দেয়। ২০১৫ সালের আগস্টে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে ইউএনপি ও ইউপিএফএ যথাক্রমে ১০৬ এবং ৯৫ টি আসন লাভ করে। ইউপিএফএ কর্তৃক প্রাপ্ত ৯৫  টি আসনের মধ্যে ৫২ জন সদস্য প্রেসিডেন্ট শ্রীসেনার দল থেকে যৌথ বিরোধীদলে (জেও) যোগ দেয়।