গরু গোশতের খোঁজে ঘরে ঘরে পুলিশী তল্লাশির অনুমতি চায় মহারাষ্ট্র সরকার

গরু গোশতের খোঁজে ঘরে ঘরে পুলিশী তল্লাশির অনুমতি চায় মহারাষ্ট্র সরকার

এসএএম রিপোর্ট,
শেয়ার করুন

মহারাষ্ট্রের বিজেপি সরকার কেউ গরু গোশত রেখেছে বলে সন্দেহ হলে তা খোঁজ করে বের করার জন্য ঘরে ঘরে তল্লাশির অনুমতি দেয়ার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে। রাজ্যটিতে ১৯৭৬ সাল থেকে গরু জবাই নিষিদ্ধ রয়েছে। কিন্তু ১৯৯৫ সালে আইনটিতে সংশোধনী এনে রাজ্যের বাইরে থেকে কেউ গোশত এনেছে বলে সন্দেহ হলে তাকে পুলিশের গ্রেফতার ও তার ঘরে তল্লাশি করার সংশোধিত আইনটি বোম্বে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার জন্য বাস্তবায়ন করা যায়নি। এখন সুপ্রিম কোর্টে হাইকোর্টের সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে বিজেপির রাজ্য সরকার।

মহারাষ্ট্র প্রাণী সংরক্ষণ (সংশোধনী) আইন, ১৯৯৫ এর ৫ ডি ধারা ২০১৫ সালের ৪ মার্চ রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পায়। কিন্তু বোম্বে হাইকোর্ট এক বছর পর ব্যক্তিগত গোপনীয়তার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করার যুক্তিতে এটি স্থগিত করে। বোম্বে হাইকোর্ট ব্যক্তির অন্তর্নিহিত গোপনয়ীতা রক্ষার মৌলিক অধিকারের কথা উল্লেখ করে আইনটি স্থগিত করে। এখন মহারাষ্ট্র সরকার সেই স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আদেশের মাধ্যমে শুন্য করে আইনটি বলবৎ করতে চায়।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এক রিপোর্ট অনুযায়ী, মহারাষ্ট্র সরকার সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে যাতে আদালত  পুলিশ অফিসারকে মহারাষ্ট্রের বাইরে জবাই করা গরুর গোশত নিয়ে রেখেছে মর্মে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক এবং তার অবস্থানে তল্লাশি চালাতে পারে। গত চার দশক ধরে মহারাষ্ট্রে গরু জবাই নিষিদ্ধ থাকায় এখানে কোন গরু জবাই হয় না।

গোপনীয়তা প্রশ্ন

ডেইলি ও এর এক রিপোর্ট অনুযায়ী, মহারাষ্ট্র রাজ্য সরকারের আপিলের ক্ষেত্রে ৬ই মে ২০১৬ তারিখে বোম্বাই হাইকোর্টের রায়ে  যে মৌলিক অধিকার হিসাবে গোপনীয়তার বিষয়টিকে বিবেচনা করেছে সেটি অতি গুরুত্বপূর্ণ । এখন গোপনীয়তার বিষয়টি মৌলিক অধিকার কিনা সেটি  নয়জন বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চ বিবেচনা করবে।

স্বাভাবিকভাবেই, গোপনীয়তা মৌলিক অধিকার হলে মহারাষ্ট্র সরকারের পিটিশনের উপর এর গুরুতর প্রভাব পড়বে এবং পুলিশ  গরুর গোশত রাখার সন্দেহে আটক ও অনুসন্ধান করতে পারবে না। মহারাষ্ট্র সরকার গরুর গোশত রাখার বিষয়টিকে মাদক রাখার মতো করে বিবেচনা করতে চাইছে। কারো কাছে গরুর গোশত পাওয়া গেলে তাকেই প্রমাণ করতে হবে গরু জবাইয়ের জন্য সে দোষি নয়। ঠিক যেভাবে মাদক আইনে করা হয়।

উল্লেখ্য,ভারতীয় সংবিধানের ২১ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রক্ষা মৌলিক অধিকার।

সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন স্থানে গো রক্ষা দলের আক্রমণে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এর প্রভাব পড়েছে গরুর দুগ্ধ ব্যবসা ও এর পরিবহণ ক্ষেত্রে। কেন্দ্রীয় সরকার জবাইয়ের উদ্দেশ্যে গরু বেচা কেনা নিষিদ্ধ করার জন্য এক প্রজ্ঞাপন জারি করলে এই বিতর্ক চরমে উঠে। বিভিন্ন রাজ্য সরকার তা মেনে নিতে অস্বীকার করে। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা হলে এর কারযকারিতা স্থগিত হয়ে যায়। সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের এই নিশেধাজ্ঞা সারা দেশের জন্য বলবৎ করে। এটি এখন ভারতে সংখ্যালঘুদের অধিকারের একটি বিষয় হিসাবে অলোচিত হচ্ছে।

ধারণা করা হচ্ছে মোম্বে হাইকোর্ট এর আপিল সুপ্রিম কোর্ট গ্রহণ করলে গো রক্ষা দলের দাপট আরো বেড়ে যাবে। সংখ্যালঘুদের জীবন নানাভাবে বিপন্ন হয়ে পড়বে।

উল্লেখ্য, ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গরুর মাংস রপ্তানিকারক। এ খাত থেকে এক লাখ কোটি রুপির রাজস্ব আদায় হবার সম্ভাবনা রয়েছে। গরু ব্যবসার উপর নিষেধাজ্ঞায় বেশিরভাগ পশুই ক্ষুদ্র ও ভূমিহীন চাষীদের হাতে থাকে বলে তারাই এর বড় শিকারে পরিণত হয়েছে। এই আইনটি ভারতীয় কৃষক এবং কৃষিখাতের উপর বড় ধরনের বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করেছে। ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিম দলিত এবং বিভিন্ন উপজাতীয় জনগোষ্ঠির খাদ্য তালিকায় রয়েছে গরু আর হিন্দুরা গরুকে দেবতা মনে করে এটাকে গো মাতা বলে থাকে।

print
শেয়ার করুন