রোহিঙ্গাদের তাড়াতে আগস্টের শুরু থেকেই পরিকল্পিত অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী: জাতিসংঘ

রোহিঙ্গাদের তাড়াতে আগস্টের শুরু থেকেই পরিকল্পিত অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী: জাতিসংঘ

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন
মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গারা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলায় প্রবেশ করছে, ছবি: রয়টার্স

জাতিসংঘ বলেছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের স্থায়ীভাবে বিতাড়িত করতে পরিকল্পনা মাফিক শুদ্ধি অভিযান চালাচ্ছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। আর, রোহিঙ্গা বিতাড়নের কাজটি ২৫ আগস্টের পরে নয়, শুরু হয়েছিলো মাসের শুরুতে। জেনেভা থেকে এএফপি’র এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

নিজস্ব এক তদন্ত রিপোর্টের বরাত দিয়ে বিশ্ব সংস্থা বুধবার (১১ অক্টোবর) জানায়, রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে রোহিঙ্গাদের ওপর যে নৃশংস হামলা চালানো হচ্ছে তা সুসংঘবন্ধ, সুসমন্বিত ও নিয়মতান্ত্রিক। এটা শুধু মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নির্মূলের জন্যই নয়, তারা যেন নিজেদের বাড়িঘরে আর কখনো ফিরতে না পারে সে জন্যও করা হচ্ছে।

গত ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যে কথিত বিদ্রোহীরা কয়েকটি পুলিশ ফাঁড়ির ওপর হামলা চালালে তার জের ধরে সেখানে সেনাবাহিনী শুদ্ধি অভিযান শুরু করে বলে উল্লেখ করা হলেও জাতিসংঘ রিপোর্টে বলা হয়, এ কাজটি আসলে ২৫ আগস্টের আগেই শুরু হয়েছিলো। সম্ভবত আগস্টের প্রথমদিকে তা শুরু হয়।’

সেনা অভিযান নিয়ে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এতদিন ধরে যে দাবি করে আসছিলো জাতিসংঘের সর্বশেষ রিপোর্ট তার সঙ্গে ভিন্নমত পোষন করে।

সেনাবাহিনীর দমন অভিযানের মুখে রাখাইন থেকে এ পর্যন্ত পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলমান পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের স্বাক্ষাতকারের ভিত্তিতে জাতিসংঘ ওই রিপোর্ট তৈরি করে।

বৌদ্ধ সংখ্যাগুরু দেশটির সঙ্গে রোহিঙ্গাদের সবরকম সম্পর্ক মুছে ফেলতে সেনাবাহিনী কিভাবে পরিকল্পনা মাফিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে তা জাতিসংঘ রিপোর্টে মোটাদাগে তুলে ধরা হয়। দশকের পর দশক ধরে মিয়ানমারে নিপীড়িত জীবনযাপন করছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী।

জাতিসংঘ বলে, ‘অনেক ক্ষেত্রে (২৫ আগস্ট) হামলার আগে ও পরে মাইকিং করে ঘোষণা দেয়া হয়: তোমরা এখানকার কেউ নও – বাংলাদেশ চলে যাও। যদি না যাও তাহলে আমরা তোমাদের বাড়িঘর জ¦ালিয়ে দেবো ও তোমাদের হত্যা করবো।’

সর্বশেষ নির্মূল অভিযানে শিক্ষকসহ সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও সম্প্রদায়ের নেতাদের বিশেষভাবে টার্গেট করা হয় বলে জাতিসংঘ রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, ভৌগলিকভাবে রোহিঙ্গাদের অস্তিত্ব মুছে ফেলতে সেখানকার গুরুত্বপূর্ণ স্মারকচিহ্নগুলো কার্যকরভাবে মুছে ফেলার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই কাজটি এমনভাবে করা হচ্ছে যেন রোহিঙ্গারা নিজেদের ভূমিতে কখনো ফিরে গেলেও সেখানে একটি বিরান ও অচেনা ভূমি ছাড়া আর কিছু খুঁজে পাবে না।

১৪ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের স্বাক্ষাতকারের ভিত্তিতে জাতিসংঘ ওই রিপোর্ট তৈরি করে।

জাতিসংঘ টিম জানায় যে তারা ৬৫টি স্বাক্ষতাকার সেশনে শত শত রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলে। কখনো ব্যক্তি, কখনো দলের স্বাক্ষাতকার নেয়া হয়। একেকটি দলে ৪০ জন পর্যন্ত রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলে জাতিসংঘ টিম।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান জেইদ রাদ আল হাসান ইতোপূর্বে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর অভিযানকে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযানের বাস্তব উহারণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

print
শেয়ার করুন