রাজনৈতিক, কারিগরি পরীক্ষার সম্মুখিন আফগানিস্তানের নির্বাচন পরিকল্পনা

রাজনৈতিক, কারিগরি পরীক্ষার সম্মুখিন আফগানিস্তানের নির্বাচন পরিকল্পনা

এসএএম রিপোর্ট,
শেয়ার করুন

আফগানিস্তানে বহু-বিলম্বিত নির্বাচনের এক বছরও বাকি নেই। কিন্তু দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচন আয়োজনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ কারিগরি সমস্যা ও রাজনৈতিক কলহের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়।

২০১৪ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ ওঠার পর দেশটিকে কিভাবে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা যায় তা নিয়ে কাবুল সরকার ও এর সমর্থক পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে বিতণ্ডা চলছে। আগামী ৭ জুলাই দেশটিতে পার্লামেন্ট ও জেলা পরিষদ নির্বাচন হওয়ার কথা। একে ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিতব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে একটি বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা ও ড্রাইরান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কিন্তু একটি বিশ্বাসযোগ্য ভোটার নিবন্ধন ব্যবস্থা তৈরিতে বিলম্ব এবং বর্তমান নির্বাচন কমিশন প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে অনেকের সমালোচনার কারণে নির্বাচন আয়োজনে আগামী বছরের সময়সীমা ঠিক রাখা যাবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। ২০১৬ সালের অক্টোবরে ওই ভোট অনুষ্ঠানের কথা ছিলো।

নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখেন কাবুলের এমন এক পশ্চিমা কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘তারিখ ৭ জুলাই নির্ধারণ করা থাকলেও ওই তারিখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে কেউ বিশ্বাস করে না।

১৬ বছর ধরে অবস্থানকারী পশ্চিমা দেশগুলো মরিয়া হয়ে  আফগানিস্তানের অগ্রগতি দেখতে চাচ্ছে। তারা কিছুটা বিলম্ব মেনে নিতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু ২০১৫ সালে পার্লামেন্টের মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার পর নির্বাচন বারবার পিছিয়ে দেয়া হলে, ২০০১ সালে তালিবান সরকারের পতনের পর দেশটিতে যে নড়বড়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জিত হয়েছিলো তা যেমন খাটো হবে তেমনি পুরোপুরি লাইনচ্যুত হওয়ার আশংকাও রয়েছে।

আফগানিস্তানে জাতিসংঘ মহাসচিবের উপ-প্রতিনিধি পারনিলে ধারেল কারদেল বলেন, ‘নির্বাচন না হলে আপনাকে আগের জায়গায় ফেরত যেতে হবে। রাজনৈতিক ক্ষমতা আপনি আসলে কিভাবে ভাগ করবেন?’

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বহুদিন ধরে নির্বাচনী এজেন্ডার প্রতি মনযোগ দিয়ে এসেছে।’

২০১৪ সালের নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট গনি ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ’র মধ্যে যুক্তষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যে আপোস চুক্তি হয় তার কেন্দ্রে ছিলো নির্বাচনী সংস্কার।

নির্বাচনের জুলাইয়ের তারিখ নড়চড় হবে না বলে গত সপ্তাহে গনি ঘোষণা দেন এবং এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে জাতিসংঘ ও দাতা সংস্থাগুলোকে আইনগত বৈধতা দিতে আফগান কর্তৃপক্ষ জাতিসংঘের সঙ্গে একটি চুক্তি সই করে।

আফগানিস্তানের নির্বাচন কমিশনের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা ইমাম মোহাম্মদ সময়মতো নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করলেও বার্তা সংস্থার কাছে স্বীকার করেন যে এই মুহূর্তে তারা বেশ কিছুটা পিছিয়ে আছেন।

ভোটার নিবন্ধন

ইমাম মোহাম্মদ জানান, আফগানিস্তানজুড়ে হাজার হাজার পোলিং স্টেশন রয়েছে। বহু অঞ্চল সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এছাড়া একটি কার্যকর ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ রয়ে গেছে। অত্যাধুনিক বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য এখনো কন্ট্রাক্ট দিতে পারেনি আফগান নির্বাচন কমিশন। গনি চান এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোটারদেরকে নির্দিষ্ট ভোটকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত করতে।

এই ব্যবস্থার কারিগরি জটিলতা নিয়ে গত নয় মাস ধরে ইসি লড়াই করছে। পশ্চিমা কর্মকর্তারা সাধারণ কাগজ-ভিত্তিক ব্যবস্থার কথা বলছে। কিন্তু যেটাই নেয়া হোক না কেন আগামী বছর নির্বাচন করতে হলে তা দ্রুত নেয়া প্রয়োজন।

ধারেল কারদেল বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে ইস্যু এখনই নিস্পত্তি হওয়া প্রয়োজন তাহলো কেন্দ্রভিত্তিক ভোটার রেজিস্ট্রেশন কিভাবে হবে।’

শুধু কারিগরি বিষয়গুলো সমস্যা নয়। ২০১৪ সালে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের যে অভিযোগ ওঠে তা এখনো নিরসন করা হয়নি।

বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ মাথায় নিয়ে বর্তমানে ভাইস প্রেসিডেন্ট বর্তমানে তুরস্কে নির্বাসনে থাকা জেনারেল আব্দুর রশিদ দোস্তামের অনুগত এমপি বশির আহমেদ তায়াঞ্জ বলেন, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে জনগণের আস্থা নস্যাৎ করা হয়েছে।

অন্যদিকে গনির মুখপাত্র শাহ হোসাইন মুরতাজাই বলেন যে নির্বাচন কমিশন স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এর সদস্যদের বাছাই করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট বা সরকারের পক্ষ থেকে কমিশনের কাজে কেউ নাক গলায় না বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, ইসি বলছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ক্ষমতা হারানোর আশংকায় নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে কমিশনের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছে।

তাই এই ইস্যুগুলোর নিস্পত্তি না হলে ২০১৪ সালের বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি হবে। এবং সেটা ঘটার আশংকাই বেশি।

ইমাম মোহাম্মদের মতে, পার্লামেন্ট নির্বাচন পিছিয়ে গেলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনও অনিবার্যভাবে পিছিয়ে যাবে।

print
শেয়ার করুন