একদিন পরেই লংকান প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে ভোটাভুটি

একদিন পরেই লংকান প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে ভোটাভুটি

কলম্বো প্রতিনিধি,
শেয়ার করুন

শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রমাসিঙ্গের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের (এনসিএম) ভোটাভুটির ব্যাপারে আর একদিন মাত্র বাকি আছে। শোনা যাচ্ছে, প্রেসিডেন্ট মৈত্রিপালা সিরিসেনা এবং তার এসএলএফপি প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করার জন্য চাপ দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি যদি তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিশ্চিতভাবে ঠেকাতে না পারে, তাহলে তার আগেই পদত্যাগ করা উচিত হবে বলে বলেছে এসএলএফপি। সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী এনসিএমের বাধা টপকেও যান, তবু বর্তমান জোট সরকারের জন্য শাসনকাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হবে কারণ সিরিসেনার শ্রীলংকা ফ্রিডম পার্টির (এসএলএফপি) প্রায় সবারই অবস্থান প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে।

যদিও অনাস্থা প্রস্তাবকে নস্যাৎ করার জন্য সঙ্ঘবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউএনপি। গত মাসে সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসার শ্রীলংকা পোদুজানা পেরামুনা (এসএলপিপি) পার্লামেন্টে এই প্রস্তাব পেশ করে। প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা সম্প্রতি এক বৈঠক করেছে যেটা সোমবার সন্ধ্যায় শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলে। ওই বৈঠক থেকে তিনি বিক্রমাসিঙ্গেকে আজ (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে একটা সুস্পষ্ট পরিকল্পনা পেশ করতে বলেছেন যে, কিভাবে তিনি নিশ্চিতভাবে এই অনাস্থা প্রস্তাবের বাধা এড়াতে পারবেন। প্রেসিডেন্টের সাথে ওই বৈঠকে ইউএনপির সব মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। ইউএনপি জোট ইউনাইটেড ন্যাশনাল ফ্রন্টের সবগুলো ছোট ছোট রাজনৈতিক দল – জাথিকা হেলা উরুমায়া, অল সিলন মাক্কাল কংগ্রেস এবং তামিল প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স – সবাই শপথ নিয়েছে যৌথভাবে এই অনাস্থা প্রস্তাবকে ঠেকিয়ে দেবে। তামিল ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স (টিএনএ) এরই মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা এই অনাস্থা প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেবে। ইউএনপি জোটের এককভাবে ১০৬টি আসন রয়েছে পার্লামেন্টে। এসএলএফপি ও এসএলপিপি’র একসাথে রয়েছে ৯৫টি আর টিএনএ’র রয়েছে ১৬টি। মার্ক্সবাদী জনতা বিমৃকিত পেরামুনা (জেভিপি) দলের ছয়টি আসন রয়েছে পার্লামেন্টে এবং তারা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেবে। অঙ্কের হিসেবে দেখা যাচ্ছে সিরিসেনার এসএলএফপি যদি প্রস্তাবের বিপক্ষেও ভোট দেয়, এর পরও শুধু ইউএনপি জোট এবং টিএনএ’র ভোটেই অনাস্থা প্রস্তাব বাতিল হয়ে যাবে।

সাপ্তাহিক মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা তার এসএলএফপি’র সদস্যদের নিয়ে বৈঠকে বসবেন। অনাস্থা প্রস্তাব ঠেকাতে ইউএনপি কি পরিকল্পনা নেয়, সেটা জানার পর দলের বৈঠকে তিনি সেটা নিয়ে আলোচনা করবেন।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট সম্ভবত এসএলএফপি’র এমপিদেরকে অনাস্থা প্রস্তাবের ব্যাপারে তাদের নিজ নিজ সিদ্ধান্ত নেয়ার স্বাধীনতা দিবেন।

সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসা এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে, তিনি আশা করছেন, প্রেসিডেন্ট মৈত্রিপালা সিরিসেনা অনাস্থা প্রস্তাবকে সমর্থন দিবেন।

রাজাপাকসা গণমাধ্যমকে বলেন, এখন এটা প্রেসিডেন্ট সিরিসেনার উপর নির্ভর করছে যে, তিনি তার দলের এমপিদের এই অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিতে বলবেন কি-না। ৪ এপ্রিল এই প্রস্তাবের উপর ভোটগ্রহণ হবে। সাবেক প্রেসিডেন্ট এমন সময় এই মন্তব্য করলেন, যখন এসএলএফপি’র বেশ কয়েকজন সিনিয়র এমপি প্রস্তাবের পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন।

এসএলএফপি’র দুজন সিনিয়র মন্ত্রী এস.বি দিশানায়েক এবং ডিলান পেরেরা অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে মত দিয়েছেন। তাদের সাথে যোগ দিয়েছেন এসএলএফপি’র আরেক সিনিয়র সদস্য ও সরকারের মন্ত্রী, লক্ষণ ইয়াপা আবেবর্ধনা। তিনি রোববার ঘোষণা দিয়েছেন যে, শ্রীলংকা ফ্রিডম পার্টির (এসএলএফপি) এমপিরা প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রমাসিঙ্গের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের বিরোধিতা করতে পারেন না, কারণ তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেগুলো যুক্তিসঙ্গত।

এসএলএফপি’র সদরদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সাথে প্রেসিডেন্টের বৈঠকের খবরকে গুজব বলে নাকচ করে দেন। কিছু মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে যে প্রেসিডেন্ট মৈত্রিপালা সিরিসেনা প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিঙ্গের সঙ্গে গত সপ্তাহে বৈঠক করেছেন এই অনাস্থা প্রস্তাবকে ঠেকানোর ব্যাপারে একমত হয়েছেন।

এসএলএফপি’র ভেতরের কিছু সূত্র জানিয়েছে যে দলের ভেতরে বিভাজন রয়েছে। একটি অংশ চায় তারা অনাস্থা প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে ইউএনপি-এসএলএফপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের অবস্থানকে আরও সংহত করবে।

সম্মিলিত বিরোধীদলীয় সূত্র অবশ্য বলছে যে, যদি অনাস্থা প্রস্তাব বেশি ভোট পায়, তবে তারা প্রেসিডেন্ট সিরিসেনাকে চাপ দিয়ে পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করে নতুন নির্বাচনে ঘোষণা দেয়ানোর চেষ্টা করবেন।

সাংবিধানিকভাবে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির আগে এই পার্লামেন্ট বিলুপ্ত হবে না। ওই সময় পরবর্তী পার্লামেন্টারি এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ওই সময়ের আগে আগাম নির্বাচন করতে হলে পার্লামেন্টের দুই-তৃতীয়াংশের ভোটে আগাম নির্বাচনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

print
শেয়ার করুন