এশিয়ার ‘গ্রেট গেমের’কেন্দ্র শ্রীলংকা?

এশিয়ার ‘গ্রেট গেমের’কেন্দ্র শ্রীলংকা?

এসএএম রিপোর্ট,
শেয়ার করুন

শ্রীলংকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার তারাঞ্জিত সিং সান্ধুর সাম্প্রতিক একটি বক্তব্য কলম্বোতে মিডিয়ার ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। প্রায় প্রতিটি সংবাদপত্র তার যে বক্তব্যের একটি কথাকে তুলে এনেছে। তিনি বলেছেন, “আমাদের সহায়তার উদ্দেশ্যে অভিযান বা আক্রমণ চালানো নয়”।

নয়াদিল্লীর ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির অধীনে ভারত-শ্রীলংকা সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ভারতের দেয়া সহায়তার বিষয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। বক্তৃতায় দুই দেশের মধ্যে রাষ্ট্রীয় ও জনগণের পর্যায়ে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন তিনি। প্রতিবেশী দেশগুলোর ক্ষেত্রে ভারতের পররাষ্ট্রনীতি কিভাবে কাজ করে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন তিনি। চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির ব্যাপারে নয়াদিল্লীর দুশ্চিন্তার বিষয়টিও তার বক্তৃতায় ছিল।

শ্রীলংকার মাটিতে চীনের উপস্থিতি নিয়ে বহু শ্রীলংকান এবং ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানসহ আন্তর্জাতিক বহু দেশের যে উদ্বেগ রয়েছে, সেদিকেও ইঙ্গিত করেন মি সান্ধু। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য আরও ব্যাপক সংযোগ স্থাপন ও অর্থনৈতিক সমন্বয় নিশ্চিত করা আমাদের প্রতিশ্রুতি। এই কথা যখন আমি বলছি, তখন সবাইকে এটাও মনে করিয়ে দিতে চাই যে, তোমাদের বাজার, সম্পদ বা জমি দখলের কোন আকাঙ্ক্ষা আমাদের নেই।”

শ্রীলংকায় বড় ধরণের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সাথে জমির বিষয়টি একটি প্রধান উদ্বেগের জায়গা। গত বছরের ডিসেম্বরে, শ্রীলংকা আনুষ্ঠানিকভাবে হামবানতোতা বন্দরটি ৯৯ বছরের জন্য চীনের হাতে তুলে দেয়। এ সিদ্ধান্তের জন্য সমালোচনকরা সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছে এবং বলেছে, এটা সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ছাড় দেয়ার শামিল। হামবানতোতা বন্দরটি এই দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে ভারত ও চীন উভয়ের ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। অতীতে এখানকার কোন প্রকল্পে ভারত বা চীন যে কোন দেশের অন্তর্ভুক্তির প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে গ্রামবাসী ও সরকার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয় যেখানে বন্দর সংশ্লিষ্ট ১৫ হাজার একর জায়গায় শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শত শত মানুষ বিক্ষোভ করে। ওই শিল্পাঞ্চল প্রকল্পের একটা বড় পক্ষ হলো চীন। অক্টোবরে হামবানতোতার ভারতীয় কনস্যুলেটের বাইরে জড়ো হয় বিক্ষোভকারীরা। মাত্তালা বিমানবন্দর বেসরকারীকরণের বিরুদ্ধে শ্লোগান দেয় তারা, যেটার কাজ নেয়ার জন্য আগ্রহী ভারত।

জীবিকার প্রশ্ন

যদিও বিক্ষোভকারীরা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত বলে মনে করা হয়, তবু তারা যে বার্তা দিচ্ছেন, সেটার বাস্তব ভিত্তি রয়েছে। হামবানতোতা সফর করে অনেকেই বলেছেন যদিও স্থানীয়দের চীন বা ভারতের ব্যাপারে কোন ক্ষোভ নেই, কিন্তু তারা দেখতে পাচ্ছেন এই বিরাট প্রকল্পগুলো তাদের থেকে অনেক দূরে এবং এখানে তাদের জীবিকার কোন উপকার হচ্ছে না। এটাই এখন শ্রীলংকা সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। স্থানীয় মানুষদের বোঝাতে হবে কেন এই্ প্রকল্পগুলো গুরুত্বপূর্ণ এবং কিভাবে এটা স্থানীয় মানুষদের উপকার করবে। কারণ স্থানীয়দের অনেকেকই স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় তাদের জমি ছেড়ে দিতে হয়েছে।

নয়াদিল্লী কিভাবে এই উদ্বেগের মোকাবেলা করবে, সেটার উপর নির্ভর করছে তাদের অংশীদার রাষ্ট্রের সাথে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি। একই সাথে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের ইমেজও নির্ভর করছে তাদের সিদ্ধান্তের উপর।

print