চীনের কাছে শ্রীলংকার বন্দর হস্তান্তর, বাড়ছে উত্তেজনা

চীনের কাছে শ্রীলংকার বন্দর হস্তান্তর, বাড়ছে উত্তেজনা

এসএএম রিপোর্ট,
শেয়ার করুন

ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলংকা, যেটা আকারে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার সমান, এই দ্বীপরাষ্ট্রটি আঞ্চলিক নৌ প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

এর কারণ হলো, গত ডিসেম্বরে শ্রীলংকা তাদের দক্ষিণের হামবানতোতা শহরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরটি একটি চীনা কোম্পানির কাছে ৯৯ বছরের জন্য লিজ দিয়েছে। ২০ মিলিয়ন জনসংখ্যার এই দেশটির চীনের কাছে যে ঋণ রয়েছে, সেটা মওকুফের জন্য সাহায্য করবে এই সিদ্ধান্ত। আর এর ফলে ভারতের মহাসাগরের কেন্দ্রস্থলে নিজের অবস্থানকে মজবুত করে নিলো চীন।

শ্রীলংকা সরকার গত ৯ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে হামবানতোতা বন্দরের ৮০ শতাংশ শেয়ার চীনের একটি রাষ্ট্রায়ত্ব কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। বন্দরটি নির্মাণের জন্য চীনের কাছ থেকে যে ঋণ নিয়েছিল শ্রীলংকা, সেই ১.৫ বিলিয়ন ডলার সময়মতো পরিশোধ করতে না পারার কারণেই বেইজিংয়ের কোম্পানির কাছে বন্দরের শেয়ার বিক্রি করতে হয়েছে। এর ফলে অভিযোগ উঠেছে যে চুক্তিটা বেইজিংয়ের বেশি অনুকূলে ছিল এবং অনেকেই শ্রীলংকার সার্বভৌমত্ব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।

এই বন্দরটি চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ প্রকল্পের জন্য বড় ভূমিকা রাখবে, যে প্রকল্পের মাধ্যমে বন্দর ও সড়কপথে চীন ও ইউরোপের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। চীনা গণমাধ্যমে এটা নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে এবং বিদেশী বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।

চীনের অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত এই চুক্তির ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। ফলে শ্রীলংকা বার বার আনুষ্ঠানিকভাবে আশ্বস্ত করেছে যে, চীনের সামরিক বাহিনী এই বন্দর ব্যবহার করবে না।

সোমবার ওয়াশিংটন ডিসির বাইরে আয়োজিত সি-এয়ার-স্পেস এক্সপোতে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রীলংকা দূতাবাসে কর্মরত নৌ বিশেষজ্ঞ রিয়ার অ্যাডমিরাল ধর্মেন্দ্র ওয়েত্তেওয়া আবার তার সরকারের আশ্বাসের কথা উল্লেখ করে বলেন, হামবানতোতা বন্দরে কোন বিদেশী সামরিক বাহিনীর কর্মকাণ্ড থাকবে না।

তিনি বলেন, “আমাদেরকে আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে। শ্রীলংকা সরকারকে যতটা সম্ভব স্বচ্ছ থাকতে হবে।”

প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসার (যিনি ২০১৫ সালের ভোটে হেরে যান) সময় থেকেই বিভিন্ন মেগা অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য শ্রীলংকা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ঋণ এনেছে। কিন্তু চীনা বিনিয়োগগুলোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। বেইজিং অতিরিক্ত দাবি করেছে এবং তাদের অর্থায়নগুলো শ্রীলংকার অনুকূলে নয়, এ ধরণের অভিযোগ রয়েছে সমালোচকদের।

আন্তর্জাতিক নৌ সহযোগিতা সম্পর্কে ওয়েত্তেওয়া বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং ইটালির নৌবাহিনীর কর্মকর্তার বাইরে চীনের সাথে শ্রীলংকার কোন নিরাপত্তা বা সামরিক সম্পর্ক নেই।”

তিনি বলেন, শ্রীলংকার কোন দেশের সাথেই বিশেষ কোন সামরিক সম্পর্ক নেই। তবে ভারত, পাকিস্তান, জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শক্তিশালী অংশীদারিত্বের সম্পর্ক রয়েছে।

তবে ওয়েত্তেওয়া এটা স্বীকার করেন যে, “বাণিজ্যিক দিক থেকে চীনের অনেক প্রভাব রয়েছে শ্রীলংকার উপর।”

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে, শ্রীলংকার চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ অ্যাডমিরাল রবীন্দ্র বিজেগুনারত্নে ভারতকে আশ্বস্ত করেছেন যে হামবানতোতা বন্দরকে কোন বিদেশী নৌবাহিনীর কাছে দেয়া হবে না। এক ইন্দো-প্রশান্ত আঞ্চলিক সংলাপ অনুষ্ঠানে তিনি এ আশ্বাস দেন বলে জানা গেছে। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নির্মলা সীতারমনও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

সীতারমন সন্দেহ পোষণ করে বলেছিলেন চীন তাদের কর্মকাণ্ড বাণিজ্যিক ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবে কি-না। তার এ মন্তব্যের মাসখানিক পরেই রবীন্দ্র ওই মন্তব্য করেন।

print