সহিংসতার পর পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা বাড়িয়েছে শ্রীলংকা

সহিংসতার পর পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা বাড়িয়েছে শ্রীলংকা

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

শ্রীলংকা শুক্রবার (২০ এপ্রিল) ঘোষণা দিয়েছে যে, বিদেশী পর্যটকদের যৌন হয়রানি এবং তাদের লক্ষ্য করে সহিংসতার ঘটনার পর জনপ্রিয় রিসোর্টগুলোতে নতুন পুলিশ পোস্ট বসানো হয়েছে এবং পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে।

পুলিশ প্রধান পুজিথ জয়াসুন্দারা বলেছেন, পর্যটকদের অপরাধী ও বাটপারদের হাত থেকে রক্ষার জন্য পর্যটনের জনবহুল জায়গাগুলোতে ২০টি নতুন স্টেশন স্থাপন করা হবে। যদিও তার বাহিনীর উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে বলে উদ্বেগও জানিয়েছেন তিনি।

জয়াসুন্দারা বলেন, “আমাদের আরও জনবল ও সম্পদ থাকলে এ কাজের জন্য ভাল হতো। তবে এই সামর্থের মধ্যেই আমরা আরও বেশি জনবল মোতায়েন ও ভাল সার্ভিস দেয়ার চেষ্টা করছি।”

তিনি আরও বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের রিসোর্ট শহর মিরিসসায় গত সপ্তাহে একজন ডাচ পর্যটককে যৌন হয়রানি করার পর এবং আরও বেশ কয়েকজনের উপর অপরাধী চক্রের হামলার ঘটনার পর এই বারতি পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পুলিশ জানায়, এই সপ্তাহে পাঁচজন ইসরাইলি পর্যটককে পেটানো হয়েছে এবং এই দুই ঘটনায় ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

স্থানীয় মিডিয়ায় বেশ কয়েকজন পর্যটককে যৌন হয়রানি করার খবর প্রকাশিত হয়েছে। আরও অনেকেই আদালত ও কোর্ট-কাচারির ঝামেলা এড়াতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।

পর্যটন মন্ত্রী জন আমারাতুঙ্গা ভুক্তভোগীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যাতে তারা ঘটনা প্রকাশের ক্ষেত্রে এগিয়ে আসেন। দোষিদের সনাক্ত করার জন্য যারা এগিয়ে আসবেন, তাদের আর্থিক সহায়তা দেয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর গত বছর সতর্ক করে দেয় যে শ্রীলংকায় নারীদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের সংখ্যা বাড়ছে।

অধিকাংশ যৌন হয়রানির ঘটনা মৌখিক কথাবার্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও যৌন হুমকি, বলপ্রয়োগ এবং ধর্ষণসহ বেশি কিছু মারাত্মক অভিযোগও রয়েছে।

পর্যটন সতর্কবার্তায় বলা হয়, “পর্যটন সৈকত এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশের ছোট হোটেলগুলোতেও এ ধরণের ঘটনা ঘটেছে।”

২০১৪ সালে এক মামলায় স্থানীয় এক রাজনীতিবিদ এবং তার তিন সহযোগীকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ২০১১ সালে ক্রিসমাসের সময় বৃটিশ পর্যটক খুরাম শেখকে হত্যা এবং তার রাশিয়ান সঙ্গীনিকে গণধর্ষণের দায়ে তাদের এ শাস্তি দেয়া হয়।

৩২ বছর বয়স্ক রেডক্রস কর্মী শেখ দক্ষিণের সৈকত রিসোর্টে এক হাতাহাতির ঘটনা থামানোর চেষ্টা করলে একটি চক্র তার উপর হামলা করে তাকে হত্যা করে।

বর্বর ওই হামলায় তার নারী সঙ্গী অচেতন হয়ে পড়ে। সে পরে ২০১৪ সালে শ্রীলংকায় ফিরে আসে এবং আদালতে এক দোষিকে চিহ্নিত করে।

print
SOURCEএএফপি
শেয়ার করুন