মোদির সাথে বৈঠকে রোহিঙ্গা, তিস্তার পানি বণ্টন ইস্যু উত্থাপন করতে পারেন হাসিনা

মোদির সাথে বৈঠকে রোহিঙ্গা, তিস্তার পানি বণ্টন ইস্যু উত্থাপন করতে পারেন হাসিনা

শুভ সিং,
শেয়ার করুন

‘অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের’ চলতি সময়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চলতি সপ্তাহে শান্তিনিকেতনের বঙ্গ ভবনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে অনানুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে এটি হবে মোদির তৃতীয় অনানুষ্ঠানিক বৈঠক। এর আগে তিনি এপ্রিলে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও গত সোমবার সোচিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে বসেছিলেন।

শেখ হাসিনার সাথে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকটি হবে শান্তিনিকেনের সদ্য উদ্বোধন হওয়া বঙ্গ ভবনে। পরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আসানসোলে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে কনভোকেশন অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সাথে সাক্ষাত করবেন। শেখ হাসিনার এজেন্ডার মধ্যে সম্ভবত রয়েছে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু সমস্যা ও তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি।

এই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে শান্তিনিকেতনের বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন ও কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়েরর কনভোকেশন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ।

শেখ হাসিনা ও মোদির উপস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারের তহবিলপুষ্ট ভবনটির উদ্বোধন করা হবে। মোদি বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি হবে মোদির প্রথম সফর। বাংলাদেশ ভবনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের জাদুঘর ও একটি লাইব্রেরি থাকছে।

কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ হাসিনাকে পশ্চিমবঙ্গের গভর্নর ও বিশ্ববিদ্যালয়টির চ্যান্সেলর কেশরি নাথ ত্রিপাঠি সম্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি দেবেন। কনভোকেশনের প্রধান অতিথি থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতনের ফলে পালিয়ে আসতে বাধ্য হওয়া রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে ভারতের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকার হতাশ হয়েছিল। ওই সময় প্রতিদিন হাজার হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে আসতে থাকলেও ভারতের অবস্থান দেখে মনে হচ্ছিল, তারা মিয়ানমারের সাথেই আছে। পরে দিল্লি তার অবস্থান পরিবর্তন করে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের জন্য ‘অপারেশন ইনসানিয়াত’ চালু করে। তারা সমস্যাটির সমাধানে বাংলাদেশের উদ্যোগের প্রতি পূর্ণ সমর্থন দেয়।

এই অনানুষ্ঠানিক শীর্ষ সম্মেলনটি হচ্ছে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের মিয়ানমার সফরের মাত্র কয়েক দিন পর। সুষমা মিয়ানমারের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে সাক্ষাত করেছিলেন। দুই পক্ষ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু সঙ্কট নিয়ে আলোচনা করে এবং রাখাইন রাজ্যের বাস্তুচ্যুতদের জন্য ঘর তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে ভারত। সুষমা রাখাইন রাজ্যে ‘নিরাপদ, দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের’ ওপর জোর দিয়েছেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

দুই দেশের মধ্যে এছাড়া পানিবণ্টন, কানেকটিভিটি, বিদ্যুৎ, অবকাঠামো সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হতে পারে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অমীমাংসিত সমস্যাগুলোর অন্যতম হচ্ছে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি তার রাজ্যের পানির হিস্যা কমিয়ে চুক্তি করতে চাচ্ছেন না।

মোদি আগেরবার সফরের সময় সমস্যাটির সন্তোসজনক সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন হাসিনাকে। বাংলাদেশে নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসায় ঢাকা চাচ্ছে সমস্যাটির দ্রুত সমাধান।

শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ক বিস্তৃত ও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। উভয় দেশেই আগামী ১২ মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।

হাসিনা এর আগে ২০১৭ সালে ভারত সফর করেছিলেন। আর মোদি তার শেষ বাংলাদেশ সফর করেছিলেন ২০১৫ সালে।

print
SOURCEফার্স্ট পোস্ট
শেয়ার করুন