নতুন বিমানবাহী রণতরীর পরীক্ষা চীনের, তাল মেলাতে মরিয়া ভারত

নতুন বিমানবাহী রণতরীর পরীক্ষা চীনের, তাল মেলাতে মরিয়া ভারত

এসএএম রিপোর্ট,
শেয়ার করুন

চীনা নৌবাহিনীর শক্তি বাড়ছে নজিরবিহীনভাবে। তারা অতি সম্প্রতি তাদের নিজস্বভাবে তৈরি প্রথম বিমানবাহী রণতরীর প্রথম সাগরে পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। এ প্রেক্ষাপটে ভারতও কোচিতে নির্মাণাধীন তার প্রথম বিমানবাহী রণতরীটির বাকি কাজ সেরে ফেলার গতি বাড়িয়ে দিয়েছে।

ভারতীয় নৌবাহিনীর সিনিয়র সূত্রগুলো জানিয়েছে, ভারতের প্রথম বিমানবাহী রণতরী বিক্রান্ত ২০২০ সালের মে বা জুন মাসে সাগরে পরীক্ষায় নামবে। ওই বছরের অক্টোবরেই একে কমিশন দেওয়া হবে। সাগরে পরীক্ষার আগেই সমন্বিত পরীক্ষার কাজ সম্পন্ন করা হবে। তবে সিনিয়র কর্মকর্তারা বলছেন, একে যুদ্ধে নিয়োজিত করার মতো অবস্থায় নিতে আরো চার বছর সময় লাগতে পারে।

রণতরীটির গুরুত্বপূর্ণ কিছু সরঞ্জাম দেরিতে হলেও আসতে শুরু করায় ভারতীয় নৌবাহিনী এখন স্বস্তিতে রয়েছে। বিশেষ করে রণতরীর মূল সেন্সর, ইসরাইলের ইএল/এম-২২৮ এমএফ-স্টার এক্টিভ ইলেট্রনিক স্ক্যান্ড নৌরাডার তারা হাতে পেয়েছে।

এমএফ-স্টার আকাশে একইসাথে কয়েকটি টার্গেট চিহ্নিত করতে পারে। কয়েক মাসের মধ্যে রণতরীটিতে মিগ-২৯কে জঙ্গিবিমান যাতে অবতরণ করতে পারে, সেই সরঞ্জাম পৌঁছাতে শুরু করবে।

বিক্রান্ত নির্মাণে ব্যয়, আকার, সময়-সবই বেড়েছে বিপুলভাবে।

কম্প্রট্রলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের (সিএজি) হিসাব অনুযায়ী প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ১৯৯৯ সালে প্রথম নিজেদের উদ্যোগে রণতরী তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়। ১০ বছরে এ জন্য ব্যয় ১,৭২৫.২৪ কোটি রুপি হবে বলে ধরা হয়।

এরপর ২০০২ সালে নৌবাহিনী জানায়, তাদের আরো বড় রণতরী প্রয়োজন। এটি হতে হবে ৩৭ হাজার টনেরও বেশি। এতে করে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৩,২৬১ কোটি রুপি। ২০১০ সালে এর নির্মাণকাজ শেষ হবে বলে ধরা হয়।

কিন্তু ২০১৪ সালের মার্চে প্রকল্পটির ব্যয় আবার বাড়িয়ে ১৯,৩৪১ কোটি রুপি বা ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি করার সিদ্ধান্ত হয়। রণতরীটি চলতি বছরের ডিসেম্বরে নির্মাণ হয়ে যাবে বলে ধরে নেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু ওই সময়ের মধ্যে যে কাজ সম্পন্ন হবে না তা নিশ্চিত।

অন্যদিকে চীন চলতি মাসের প্রথম দিকে তদের ৭০ হাজার টনের বিমানবাহী রণতরীটির সাগরে পরীক্ষা সম্পন্ন করে। এটিই তাদের প্রথম দেশে তৈরি এ ধরনের যান। এর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০১৩ সালের নভেম্বরে। ভারতের রণতরীটির পরিকল্পনা করা হয়েছিল ১৯৯৯ সালে। সেটি এখনো শেষ হয়নি, অথচ চীনেরটি সাগরে নেমে গেছে।

চীনা নৌবাহিনীর দ্রুত বিকাশ লক্ষ্য করে ভারতীয় নৌবাহিনীও তাদের বরাদ্দ বাড়াতে বলছে। তারা এখন ৫৭টি নতুন প্রজন্মের সামুদ্রিক জঙ্গি বিমান চাচ্ছে। প্রকল্পটি শেষ করতে শেষ পর্যন্ত ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এখনো বরাদ্দ অনুমোদন করেনি।

বর্তমানে ভারতের একটিমাত্র বিমানবাহী রণতরী রয়েছে। সেটি হলো রুশ-নির্মিত আইএনএস বিক্রমাদিত্য। এটি তারা সংগ্রহ করে ২০১৩ সালে। নৌবাহিনী জোর দিয়ে বলছে, তাদের প্রয়োজন অন্তত তিনটি বিমানবাহী রণতরী, আর যেকোনো সময় মোতায়েনের জন্য প্রয়োজন এ ধরনের দুটি রণতরী।

print
SOURCEএনডিটিভি
শেয়ার করুন