কাশ্মীরে রমজানের অস্ত্রবিরতির মধ্যেই সেনাবাহিনীর গোলাগুলি

কাশ্মীরে রমজানের অস্ত্রবিরতির মধ্যেই সেনাবাহিনীর গোলাগুলি

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

ভারত সরকার যে মুহূর্তে অশান্ত জম্মু ও কাশ্মীর এলাকায় রমজানের অস্ত্রবিরতির সুবিধাগুলো নিয়ে ভাবছে, তখন ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সেখানে বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সূর্যাস্তের সময় যখন মানুষ ইফতারি করছিল, তখন তাদের উপর গুলি চালায় সেনাবাহিনী।

সোমবার সন্ধ্যায় এক দল কথিত বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি চালায় ৩৪ রাষ্ট্রীয় রাইফেলস বাহিনীর সদস্যরা। এতে চারটি মেয়ে গুলিবিদ্ধ হয়। এদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। দক্ষিণ কাশ্মীরের সোপিয়ান জেলার ডিকে পোরা গ্রামে সেনাবাহিনী ইফতারের দোকান দিতে গেলে স্থানীয়রা প্রতিবাদ করে। এ সময় তাদের উপর গুলি চালানো হয়।

পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল এসপি ভেদ সাংবাদিকদের বলেন, কিছু লোক সেখানে সেনাবাহিনীর ইফতারকে ‘হারাম’ আখ্যা দেয় এবং সেনাদের দিকে পাথর ছোড়ে। সেনা মুখপাত্র বলেছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রমজান উপলক্ষ্যে অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দেয়ায় নতুন করে আশাবাদী হয়েছিল জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষ। কিন্তু নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এখনও সরকারের কাছ থেকে কোন আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পায়নি কিভাবে ওই অঞ্চলে অস্ত্রবিরতি কার্যকর করা হবে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটেছে।

জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির প্রস্তাব অনুসারে ১৬ মে নয়াদিল্লী রমজানের সময় অস্ত্রবিরতি করতে সম্মত হয়। রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শর্তসাপেক্ষ অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দেয় এবং রমজানে মাসে সেখানে জঙ্গীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা থেকে বিরত থাকার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দেয়।

সেনাবাহিনীকে অস্ত্রবিরতির আনুষ্ঠানিক আদেশ দেয়া হয়নি

নিরাপত্তা কর্মকর্তারা নয়াদিল্লীর অবস্থানকে গ্রহণ করে কোন ব্যারিকেড দেয়া সার্চ করা বন্ধ রেখেছে। কিন্তু সেনাবাহিনী এখন পর্যন্ত অস্ত্রবিরতির ব্যাপারে কোন আনুষ্ঠানিক আদেশ পায়নি।

সেনাবাহিনী ও রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা এশিয়া টাইমসকে বলেছেন যে, প্রেস ইনফরমেশান ব্যুরোর দেয়া ‘পাবলিক হ্যান্ডআউট’ ছাড়া স্বরাষ্ট্র বা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কোন সুনির্দিষ্ট আদেশ তারা পাননি।

প্রেস হ্যান্ডআউটে মূলত বলা হয়েছে কেন অস্ত্রবিরতি কার্যকর করা প্রয়োজন। কিন্তু কিভাবে বাস্তব ক্ষেত্রে সেটা বাস্তবায়ন করা হবে, সে ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। এতে বলা হয়েছে, “সরকার একটা মুক্ত ও সন্ত্রাস ও সহিংসতামুক্ত পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছে, যাতে মুসলিম ভাইয়েরা শান্তিপূর্ণভাবে রমজান পালন করতে পারে এবং যাতে এমন একটা পরিবেশ তৈরি করতে চায় যাতে সন্ত্রাসীরা তাদের ধর্মীয় সহানুভূতির অপব্যবহার করতে না পারে”।

‘সন্ত্রাসীদের জন্য কোন অস্ত্রবিরতি নেই’

তবে ক্ষমতাসীন বিজেপির ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট অমিত শাহ এরই মধ্যে বোমা ফাটিয়েছেন। তিনি বলেছেন জঙ্গিদের ব্যাপারে কোন অস্ত্রবিরতি নেই। ইন্ডিয়া টিভি কনক্লেভে কথা বলার সময় অমিত শাহ বলেন, “অস্ত্রবিরতির সিদ্ধান্তকে ভুলভাবে নেয়ার সুযোগ নেই… এটা সন্ত্রাসীদের জন্য নয়। এটা হলো সাধারণ মুসলিমদের জন্য যাতে তারা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের ধর্মীয় বিধিবিধান পালন করতে পারে”।

তিনি বলেন, “যখন সেনাবাহিনী বা আধাসামরিক বাহিনী কোন অভিযানে নামে, এটা শুধু সন্ত্রাসীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না”। তিনি আরও বলেন, “একটা বড় এলাকাকে বিবেচনায় নিতে হয়, স্কুল ও বাড়িঘর খালি করার প্রয়োজন হয় এবং এরপর অভিযান চালানো হয়। তাই রমজানের মধ্যে এ ধরনের অভিযান না চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে”।

চলতি মাসের শুরুতে সর্বদলীয় বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন করেন যাতে মধ্য মে’তে রমজানের শুরু থেকে আগস্টে হিন্দুদের অমরনাথ যাত্রা পর্যন্ত সময়ে এই রাজ্যে একতরফা অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দেয়া হয়। তিনি বলেন, অস্ত্রবিরতি করা হলে জনগণ একটু শান্তি পাবে এবং রাজ্যের পরিবেশ ভালো করতে সেটা সাহায্য করবে।

print
SOURCEএশিয়া টাইমস
শেয়ার করুন