অস্ট্রেলিয়াকে মালাবার মহড়া থেকে দূরে রাখার ভারতের সিদ্ধান্তটি সুচিন্তিত

অস্ট্রেলিয়াকে মালাবার মহড়া থেকে দূরে রাখার ভারতের সিদ্ধান্তটি সুচিন্তিত

সীমা গুহ,
শেয়ার করুন

ভারত, জাপান আর আমেরিকার নৌ জাহাজগুলো এখন গুয়াম উপকূল চষে বেড়াচ্ছে। পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে আমেরিকার এই দ্বীপে গত বৃহস্পতিবার ১০ দিনব্যাপী বার্ষিক মালাবার মহড়া শুরু হয়েছে। এই বছরই প্রথমবারের মতো ভারত ও জাপানকে নিজের জলসীমায় স্বাগত জানিয়েছে। ভারত-যুক্তরাষ্ট্র মহড়ার এটা ২২তম বছর। এ সময়টাতে মালাবার মহড়ার পরিধি এবং জটিলতা অনেক বেড়েছে। তিনদেশের নৌবাহিনী সার্ফেস যুদ্ধ এবং সাবমেরিন-বিরোধী মহড়ায় অংশ নেবে। এতে থাকছে ঘেরাও অভিযান, যৌথ হামলা, নৌ টহল এবং ফিলিপাইন সাগরের জলসীমার কাছে নজরদারি।

চীনের প্রতিবাদের কারণে জাপান মালাবার মহড়ায় অংশ নিয়েছে, আবার বাদও দিয়েছে। আগের ইউপিএ সরকার এশিয়ার প্রতিবেশীদের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের অংশ হিসেবে চীনের চাপে মহড়ায় অংশ নেয়া থেকে বিরত ছিল। কিন্তু ২০১৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয়া হয় যে জাপান মালাবার মহড়ায় স্থায়ীভাবে অংশগ্রহণ করবে। এর মধ্য দিয়ে এটাকে ত্রিদেশীয় মহড়ায় রূপ দেয়া হয়।

চীন খুশি হয়নি। কিন্তু আজকের আন্তর্জাতিক বিশ্ব ব্যবস্থায় কূটনীতির একটা অপছন্দীয় দিক হিসেবে ত্রিদেশীয় এই মহড়াকে মেনে নিয়েছে তারা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেং শুয়াং ২০১৭ সালে বলেছিলেন, চীন আশা করে এ ধরনের সম্পর্ক এবং সহযোগিতা কোন বিশেষ দেশকে উদ্দেশ্য করে করা হবে না এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে এটা কাজ করবে”। বর্তমান মহড়া নিয়ে এখন পর্যন্ত চীন কোন মন্তব্য করেনি।

অস্ট্রেলিয়া মালাবার মহড়ায় যোগ দিয়ে এটাকে চার দেশীয় মহড়ায় রূপ দিতে আগ্রহী ছিল। কোয়াডভুক্ত চার দেশ ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়ার সিনিয়র কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরে বৈঠকও করেছেন। চীনের আগ্রাসী শক্তির মোকাবেলায় গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর একজোট হওয়ার ধারণাটি শিনজো আবে ২০০৬ সালে জাপানের স্বল্পকালীন প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে প্রথম উত্থাপন করেছিলেন। চীনের প্রবৃদ্ধি বন্ধ করে দেয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল চীন। পরের বছর ক্ষমতা হারায় আবে এবং যুক্তরাষ্ট্র, ভারত বা অস্ট্রেলিয়ার কেউই চীনকে আর ঘাঁটাতে চায়নি।

চীনের সাথে চমৎকার বাণিজ্যের সম্ভাবনাটা বিবেচনা করে এতে মোটেই আগ্রহী হয়নি অস্ট্রেলিয়ার কেভিন রুড। ফলে সিদ্ধান্ত মুখ থুবড়ে পড়ে। কিন্তু ধারণাটা রয়ে গিয়েছিল। এখন এটা আবার জাগ্রত হয়েছে যদিও খুব একটা সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবারের বৈঠক ছিল গ্রুপের মাত্র দ্বিতীয় বৈঠক। অংশগ্রহণকারীরা ‘কোয়াড’ শব্দ উল্লেখই করেননি এবং বলেছেন, ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলে চার দেশের অভিন্ন স্বার্থ নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা। ভারত এখনই চীনের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঝড় তুলতে চায় না।

অস্ট্রেলিয়া এবং ভারতের মধ্যে বড় ধরনের কোন সমস্যা নেই। অস্ট্রেলিয়াকে ভবিষ্যতে মালাবার মহড়ায় অন্তর্ভুক্ত করে এটাকে কোয়াডে রূপ দেয়া যেতে পারে। কিন্তু এখন চীনের সাথে সম্পর্ক ঠিক রাখাটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এটা না করাটা বোকামি হবে। কারণ অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে ভারতের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে চীন। এই সময়টা ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো এবং আধুনিকায়নের কাজে ব্যয় করা যেতে পারে। এখানে নিজ স্বার্থেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে যুক্তরাষ্ট্র।

print
SOURCEডেইলি ও
শেয়ার করুন