দক্ষিণ এশিয়ার রাস্তা বানাচ্ছে চীন, সেতুও কি বানাতে পারবে?

দক্ষিণ এশিয়ার রাস্তা বানাচ্ছে চীন, সেতুও কি বানাতে পারবে?

টম হোসাইন,
শেয়ার করুন

বেইজিং ২০১৩ সাল থেকে বৈরী কূটনৈতিক সম্পর্কের ঊর্ধ্বে ওঠে ‘উইন-উইন’ প্রকল্প হিসেবে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ উন্নয়নে কঠোরভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এর সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করবে আঞ্চলিক বৈরিতা কমানোর ওপর।

বিআরআই একদিকে চলাচলের রাস্তা নয়। চীন বাস্তবে তার অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে উচ্চ প্রবৃদ্ধিতে নিয়ে যাওয়ার শর্ত পূরণ করেছে। আরো সমৃদ্ধ হওয়ার জন্য চীনকে উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর সাথে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আর সেটা করা যেতে পারে চীনা অর্থায়নে বিআরআই প্রকল্পের অবকাঠামো বিনিয়োগ প্রকল্পের মাধ্যমে। তবে বিআরআই একটি ঋণের ফাঁদে পরিণত হতে যাচ্ছে বলেও সমালোচনা চলছে, এরও অবসান ঘটাতে হবে।

এই লক্ষ্যে চীনের উত্তেজনাপূর্ণ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ জিনজিয়াংয়ে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ায় চীন আরো কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

পাকিস্তানের সাথে নিরাপত্তাকেন্দ্রিক সংলাপ আবার শুরু করার জন্য ২০১৬ সাল থেকে পর্দার অন্তরাল থেকে কাজ করে যাচ্ছে চীন। উপমহাদেশের পরমাণু অস্ত্রসজ্জিত দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তান ২০০৩ সালে কাশ্মির প্রশ্নে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। গত এপ্রিলে চীনা প্রেসিডেন্ট শি ও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মোদির মধ্যকার অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে এ বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। এই প্রেক্ষাপটেই পাকিস্তান ও ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে।

গত সপ্তাহে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি ও পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট মামনুনকে প্রকাশ্যে হাত মেলানোর ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন শি। কিঙদাওতে অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনে তারা প্রকাশ্যে হাত মিলিয়েছিলেন। গুরুত্বপূর্ণ একটি বহুজাতিক শীর্ষ সম্মেলনে শি অভিন্ন নিরাপত্তা স্বার্থের বার্তাটি দিয়েছেন। কারণ বিআরআইয়ের অর্থনৈতিক কানেকটিভির জন্য বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

শির এই উদ্যোগ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো একতরফা সিদ্ধান্ত নিতে আগ্রহী রাজনীতিবিদদের সঙ্ঘাতময় ভাষ্যের বিপরীত।

এদিকে চীনা কূটনীতিবিদেরা আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছেন। ২০১৫ সালে তালেবানের সাথে সরাসরি শান্তি আলোচনার পর দুই দেশের সম্পর্কে ব্যাপক অবনতি ঘটেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন উৎসাহিত হয়ে ভারতের সাথে সম্পর্ক জোরদার করে তারা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস চালানোর অভিযোগ করতে থাকে।

আফগানিস্তানে ২০০১ সালে মার্কিন হস্তক্ষেপের পর চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ির হস্তক্ষেপের ফলেই প্রথমবারের মতো সাময়িকভাবে হলেও যুদ্ধবিরতি হয়।

আফগানিস্তানে চীনা উদ্যোগের একটি লক্ষণীয় বিষয় হলো, এটি কোনো পক্ষের কাছ থেকেই বিরোধিতার মুখে পড়েনি।

চীন চাচ্ছে সিপিইসি ও ইরান ও তুরস্ক দিয়ে কাসপিয়ান অঞ্চলগামী বিআরআই রুটের মধ্যে আফগানিস্তানকে একটি কেন্দ্রে পরিণত করতে।

ওহান শীর্ষ বৈঠকে শি ও মোদি আফগানিস্তানকে বাণিজ্য ও জ্বালানি করিডোর হিসেবে গড়ে তোলার ধারণায় উদ্দীপ্ত হন। তারা আফগানিস্তানে ভারত-চীন যৌথ প্রকল্প গ্রহণেও সম্মত হন।

এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে মোদির নমনীয় মনোভাবে মনে হচ্ছে, ভারত এখন ইরান ও আফগানিস্তান হয়ে ইউরেশিয়া করিডোরের পরিকল্পনা করছে। এটি বিআরআই রুটের পরিপূরক কানেকটিভিটি হতে পারে।

এতে আরো মনে হচ্ছে, পাকিস্তানকে সম্ভবত চীন বোঝাতে সক্ষম হয়েছে, আফগানিস্তানে ভারতের অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা পাকিস্তানের স্বার্থের জন্য হুমকিপূর্ণ হবে না।

দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের সম্পৃক্ততা আসলে অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ও অন্তর্ভুক্তমূলক। সিপিইসির মতো প্রকল্পগুলোর সফলতা নির্ভর করছে আরো বেশি দেশের এতে সম্পৃক্ততা।

চীনের সৎ কূটনৈতিক দৌতকর্ম করা হচ্ছে অত্যন্ত মেরুকরণ করা অঞ্চলে। এতে অনেক ঝুঁকি আছে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসন যখন একরতফাভাবে ইরানের ওপর কঠোর অবরোধ চাপিয়ে দিচ্ছেন।

তবে অন্যরা যেখানে ঝুঁকি দেখে, চীন দেখে সুযোগ।

print