এসসিওর অধীনে অভিন্ন ক্ষেত্র খুঁজে পেয়েছে ভারত ও পাকিস্তান

এসসিওর অধীনে অভিন্ন ক্ষেত্র খুঁজে পেয়েছে ভারত ও পাকিস্তান

আই জুন,
শেয়ার করুন

সাংহাই কোঅপারেশান অর্গানাইজেশানের (এসসিও) ফ্রেমওয়ার্কের অধীনে সন্ত্রাস-দমন সামরিক মহড়া ‘পিস মিশন ২০১৮’-তে একসাথে প্রশিক্ষণ দেবে ভারত ও পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। ভারতীয় মিডিয়ায় এই খবর প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রথমবারের মতো দুই দেশের সেনারা একসাথে যুদ্ধ মহড়ার জন্য প্রশিক্ষণ দেবে। আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় এসসিও’র ভূমিকা দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।

১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর থেকে নয়াদিল্লী ও ইসলামাবাদের মধ্যে একের পর এক সংঘর্ষ লেগেই আছে। দুই দেশের মধ্যে বিভেদের কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সংহতি গড়ে ওঠাটা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে দুই দেশের এক সাথে সামরিক প্রশিক্ষণে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত যথেষ্ট ইতিবাচক। ২০১৭ সালের জুনে ভারত ও পাকিস্তান যখন এসসিও’র পূর্ণ সদস্য হিসেবে গৃহীত হয়, তখন কিছু পর্যবেক্ষক আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিলেন, দীর্ঘ দিনের পুরনো শত্রু এই দুই দেশ হয়তো সংস্থাটিকে নিজেদের বিবাদের কেন্দ্র বানিয়ে তুলবে। এখন দেখা যাচ্ছে এসসিও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার স্পিরিট তৈরি করতে পেরেছে।

১৯৭২ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন এবং চীনের মাও সেতুংয়ের মধ্যে যে বৈঠক হয়েছিল, সেটা ইতিহাসের গতি বদলে দিয়েছিলো। ওই বৈঠকের আগে নিক্সন নিজেকে তিনটি প্রশ্ন করেছিলেন: চীন কি চায়? যুক্তরাষ্ট্র কি চায়? দুটো দেশই কি চায়? নিক্সন বুঝতে পেরেছিলেন এই তৃতীয় প্রশ্নটিই দুই দেশের মধ্যে যে কোন চুক্তির মূল চাবিকাঠি।

ভারত ও পাকিস্তান জানে তারা উভয়েই কি চায় – শান্তিপূর্ণ উন্নয়ন। দুই দেশই এ ব্যাপারে সচেতন যে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকরা তাদের মধ্যে যে শত্রুতার বীজ বপন করে গেছে, তা থেকে তাদের বেরিয়ে আসা দরকার এবং উভয়ের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো দরকার। ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীন হওয়ার পর ৭০ বছর পেরিয়ে গেছে। এখন ঔপনিবেশের ছায়া থেকে তাদের বেরিয়ে আসা দরকার।

নয়াদিল্লী এবং ইসলামাবাদের বেশ কিছু অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। তারা উভয়ের সন্ত্রাস দমন করতে চায়, অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সমস্যা মেটাতে চায় এবং জনগণের জীবনযাত্রার মানের উন্নতি করতে চায়। কিন্তু শান্তি ও স্থিতিশীলতা অথবা আঞ্চলিক সংহতি ছাড়া এই লক্ষ্যগুলো কোনভাবেই পূর্ণ হবে না।

ভারত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চায় কিন্তু পাকিস্তানের সাথে তার রেষারেষির কারণে স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। একইভাবে, ভারতের সাথে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য বিপুল সম্পদ ব্যয় করেছে পাকিস্তান। ভারতের সাথে শত্রুতার অবসান হলে এই অর্থ তারা অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগাতে পারতো এবং এর মাধ্যমে আরও বৃহৎ কৌশলগত এবং কূটনৈতিক অর্জন করতে পারতো।

এসসিও ভারত ও পাকিস্তানকে এক সাথে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে। কিন্তু সুযোগটা তাদের একার নয়। বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভও অভিন্ন স্বার্থে সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে এসেছে। নয়াদিল্লী এই প্রকল্পের ব্যাপারে শুরু থেকেই সন্দেহপ্রবণ। কিন্তু চীন ভারতের উৎপাদন শিল্প, পরিস্কার জ্বালানি ইত্যাদি খাতে বিনিয়োগ করছে। এগুলো বেল্ট অ্যাণ্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অধীনে হচ্ছে না কিন্তু দুটো বিনিয়োগের ক্ষেত্রেই একই স্পিরিট কাজ করছে চীনের।

আসন্ন ভারত ও পাকিস্তানের যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণকে উৎসাহিত করা উচিত। এটা আশা করা যেতে পারে যে দুই দেশ পারস্পরিক আস্থা অর্জন করবে এবং এটা তাদের ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করে দেবে।

print
SOURCEগ্লোবাল টাইমস
শেয়ার করুন