আফগান পাকিস্তান কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আশাবাদী কাবুল

আফগান পাকিস্তান কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আশাবাদী কাবুল

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

আফগানিস্তান-পাকিস্তান অ্যাকশান প্ল্যান ফর পিস অ্যান্ড সলিডারিটি (এপিএপিপিএস) বাস্তবায়নের ব্যাপারে আশাবাদী আফগান সরকারের কর্তাব্যক্তিরা। তাদের প্রত্যাশা, কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে এটা সাহায্য করবে।

আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট প্যালেস থেকে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্টের সাথে সোমবার পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল কমর জাভেদ বাজওয়াসহ সামরিক কর্মকর্তাদের যে বৈঠক হয়েছে, তা ফলপ্রসু হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির ডেপুটি মুখপাত্র শাহুসাইন মুর্তাজায়ী বলেছেন, “পাকিস্তানের সাথে কার্যকর এবং গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা আমাদেরকে ঐতিহাসিক এবং মৌলিক সমস্যাগুলোর যুক্তিসম্মত সমাধান খুঁজে পেতে সাহায্য করছে”।

সরকারী সূত্র মতে, আগের বৈঠকগুলোর সাথে সোমবার বৈঠকের পার্থক্য হলো এখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে আগের ‘ভুল’ নীতিগুলোর পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়।

চিফ এক্সিকিউটিভ আবদুল্লাহ আবদুল্লাহর ডেপুটি মুখপাত্র ওমিদ মায়সাম বলেন, “মি বাজওয়া স্পষ্ট করে বলেছেন ভুল নীতিগুলো আফগানিস্তান বা পাকিস্তান কারোরই উপকার করছে না এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী নীতি বদল হওয়া দরকার”।

সাবেক স্বরাষ্ট্র বিষয়ক ডেপুটি মন্ত্রী মির্জা মোহাম্মদ ইয়ারমান্দ বলেন, “পাকিস্তান যখন শান্তি ও নিরাপত্তার প্রশ্নে আমাদের সাহায্য করতে চায়, তখন আমাদের অগ্রাধিকারগুলো ঠিক করা উচিত। এটা সুনির্দিষ্ট হওয়া উচিত পাকিস্তান কি চায় এবং আফগানিস্তান পাকিস্তানের কাছ থেকে কি চায়”।

আফগানিস্তানের একজন এমপি আব্দুল রউফ এনামি বলেছেন কর্মপরিকল্পনার মধ্যে ‘সন্ত্রাসীদের’ আফগানিস্তানে অনুপ্রবেশ বন্ধ এবং পাকিস্তানের ভেতরের মাদ্রাসাগুলোর প্রসঙ্গ নেই।

তিনি বলেন, “পাকিস্তানের সাথে কোন বৈঠকই আফগানিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ১০ দিনের জন্যও ঠিক রাখতে সাহায্য করেনি”।

এপ্রিলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহীদ খাকান আব্বাসী যখন কাবুল সফরে যান, তখন কাবুল ও ইসলামাবাদ এপিএপিপিএস চূড়ান্ত করে।

কর্মপরিকল্পনার মূল বিষয়গুলো হলো:

  • পাকিস্তান আফগান-নেতৃত্বাধীন এবং আফগান-আয়ত্বাধীন শান্তি ও সমঝোতা প্রক্রিয়াকে সমর্থন দেবে।
  • যে সব পলাতক ব্যক্তি এবং গোষ্ঠি দুই দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে দুই দেশ।
  • দুই দেশই তাদের ভূ-খণ্ডকে তৃতীয় কোন দেশ, নেটওয়ার্ক, গ্রুপ বা ব্যক্তিকে অন্য দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেবে না।
  • সম্মত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নের জন্য যৌথ পর্যবেক্ষণ, সমন্বয় এবং চূড়ান্তকরণ মেকানিজম তৈরি করা হবে।
  • দুই দেশই একে অন্যের আকাশ ও স্থল সীমা লঙ্ঘন করা থেকে বিরত থাকবে।
  • দুই দেশই দোষারোপের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসবে এবং যে কোন মতভেদের বিষয় এপিএপিপিএস সহযোগিতা মেকানিজমের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করবে।
  • এপিএপিপিএসের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং পারস্পরিকভাবে গৃহীত নীতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য ওয়ার্কিং গ্রুপ এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা মেকানিজম প্রতিষ্ঠা করা হবে।
print
SOURCEটোলো নিউজ
শেয়ার করুন