পাকিস্তানে নির্বাচনী সমাবেশে হামলা, নিহত ১২৮

পাকিস্তানে নির্বাচনী সমাবেশে হামলা, নিহত ১২৮

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের মাতাং জেলায় শুক্রবার বিকেলে এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় রাজনীতিবিদ নওয়াবজাদা সিরাজ রাইসানিসহ অন্তত ১২৮ জন নিহত ও আরো দুই শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। বেলুচিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগা উমর বাঙ্গালজাই শুক্রবার রাতে ডন নিউট টিভিকে এ কথা বলেন।

ইসলামিক স্টেট (আইএস) এই হামলার দায়দায়িত্ব স্বীকার করেছে। সংগঠনটির আমাক নিউজ এজেন্সির মাধ্যমে তারা খবরটি নিশ্চিত করে। ২০১৪ সালে পেশোয়ারে আর্মি পাবলিক স্কুলে হত্যাযজ্ঞের পর পাকিস্তানে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা।

আগা উমর বলেন, হামলায় মির সিরাজ মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিলেন। হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান।

প্রাদেশিক কর্মকর্তারা জানান, অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীরা নির্বাচনী সভার এক কোণায় টার্গেট নির্ধারণ করেন। সভাটি আয়োজন করেছিল বেলুচিস্তান আওয়ামি পার্টি (বিএপি)। সিনিয়র প্রাদেশিক কর্মকর্তা সাইয়িদ জামালি বলেন, সভা চলাকালে বোমা হামলাকারী বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।

বিএপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সরফরাজ বুগতি তাদের প্রার্থী মির সিরাজ নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সেনাপ্রধান এই হামলার নিন্দা করেছেন।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ইসলামাবাদে রাশিয়া, ইরান, চীন ও পাকিস্তানের গোয়েন্দাপ্রধানরা এই অঞ্চলে জঙ্গিবাদী দল আইএসের উত্থানে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাদের দমনে ঐক্যবদ্ধ কর্মপন্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দফতর এ ধরনের কোনো সভা হওয়ার কথা অস্বীকার করেছে। তবে কর্মকর্তারা বেসরকারিভাবে ডনকে বৈঠকটি হওয়ার বিষয় নিশ্চিত করেছেন।

নিহত মির সিরাজ ছিলেন বেলুচিস্তানের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী নবাব আসলাম রাইসানির ছোট ভাই। তিনি চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ১৯৭০-এর দশকে নবাব গাউস বখশ রাইসানির প্রতিষ্ঠিত বেলুচিস্তান মুত্তাহিদা মাহাজের (বিএমএম) মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন।

সম্প্রতি রাইসানি বিএমএমকে নবগঠিত বিএপিতে একীভূত করেন।

তিনি বিপি-৩৫ আসনে তার নিজের ভাই নবাব আসলাম রাইসানির (স্বতন্ত্র) বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন।

সিরাজের কিশোর পুত্র হাকমল সাইসানি ২০১১ সালে এক গ্রেনেড হামলায় নিহত হয়েছিলেন। ওই গাড়িতে সিরাজ থাকলেও তিনি অক্ষত অবস্থায় রক্ষা পেয়েছিলেন।

তিনি তার জীবনের প্রতি হুমকি সত্ত্বেও বারবার বলে আসছিলেন, তিনি পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগান দিয়ে যাবেন।

আগামী ২৫ জুলাই পাকিস্তানে নির্বাচন হবে।  কিন্তু এর আগে দিয়ে রাজনীতিবিদদের ওপর বেশ কয়েক দফা হামলা হয়েছে।

এর আগে খাইবার পাকতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী আকরাম খান দুররানির বহরেও হামলা হয়েছিল। বানুতে সংগঠিত ওই হামলায় দুররানি অক্ষত ছিলেন। তবে তাতে চারজন নিহত ও ৩২ জন আহত হয়েছিল।

এছাড়া বৃহস্পতিবার খাজদারে বিএপির নির্বাচনী অফিসের কাছে একটি হামলা হয়।

print
SOURCEডন নিউজ
শেয়ার করুন