চিনের উপর নজরদারিতে অর্ধশতক আগে গোপন অভিযান ইন্দো-মার্কিন গোয়েন্দাদের!

চিনের উপর নজরদারিতে অর্ধশতক আগে গোপন অভিযান ইন্দো-মার্কিন গোয়েন্দাদের!

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

হিমালয়ের শৃঙ্গ থেকে চিনা পারমাণবিক কর্মকাণ্ডের উপরে নজরদারি চালানোর ছক কষে আইবি ও সিআইএ৷ ১৯৬৫-তে গোপন অভিযান চালায় ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি৷ উক্ত অভিযানে হারিয়ে যায় পারমাণবিক শক্তিচালিত একটি নজরদারি যন্ত্র৷ বর্তমানে যা দূষিত করে চলেছে গঙ্গাকে৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে, তাঁকে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্যই জানান উত্তরাখণ্ডের পর্যটন মন্ত্রী সৎপাল মহারাজ৷ দাবি করেন, গঙ্গাকে সুরক্ষিত করতে সেই অ্যাটমিক ডিভাইস খুঁজে বের করা উচিত৷

সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন ১৯৬৫-র এই গুপ্ত অভিযানের নেতৃত্বে থাকা ক্যাপ্টেন মনমোহন সিং কোহলি৷ অশীতিপর এই বৃদ্ধ এখন দিল্লির বাসিন্দা৷ সংবাদ মাধ্যমের কাছে তিনি স্বীকার করে নেন ভারত-মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ উদ্যোগে চালানো এই অভিযানের কথা৷ জানান, ১৯৬৪-তে চিন প্রথম পারমাণবিক বোমা পরীক্ষা করলে নড়েচড়ে বসে আমেরিকা৷ চিনের পারমাণবিক কর্মকাণ্ডের উপরে নজরদারি চালানোর পরিকল্পনা করে ওয়াশিংটন৷ এক্ষেত্রে তারা সাহায্য চায় নয়াদিল্লির কাছে৷ এরপরই ১৯৬৫-র অক্টোবরে যৌথ অভিযান চালায় আইবি ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ৷

কেমন করে চালানো হয় সেই অভিযান? ক্যাপ্টেন মনমোহন সিং কোহলি জানান, প্রথমে পর্বতারোহীর ছদ্মবেশে হিমালয়ের নন্দাদেবী পর্বতশৃঙ্গে ওঠেন দুই দেশের গোয়েন্দারা৷ কারণ সেখান থেকেই বেজিংয়ের পারমাণবিক কর্মকাণ্ডের উপরে স্পষ্ট নজরদারি চালান সম্ভব হত৷ গোয়েন্দারা নজরদারিতে ব্যবহার করেন প্ল্যাটিনিয়াম ও ইউরেনিয়াম দ্বারা চালিত একটি শক্তিশালী পারমাণবিক যন্ত্র৷ কিন্তু, প্রবল তুষার ঝড়ের মধ্যে পড়েন গোয়েন্দাদের দলটি৷ ফলে ওই যন্ত্র সেখানে ফেলেই নেমে আসতে বাধ্য হন তাঁরা৷ জানা গিয়েছে, এরপর ১৯৬৬-র মে মাসে ও ১৯৬৭-তে গিয়ে ওই পারমাণবিক যন্ত্রটির খোঁজ করেন গোয়েন্দারা৷ কিন্তু উদ্ধার করা যায়নি সেটি৷ ১৯৬৮-তে গোপন অভিযানটি স্তব্ধ হয়ে যাওয়ায়, বন্ধ হয়ে যায় যন্ত্রটির খোঁজ৷ ক্যাপ্টেন সিং আরও জানান, একশো বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে সেই পারমাণবিক নজরদারি যন্ত্র৷ যার মধ্যে ইতিমধ্যেই অতিক্রান্ত পঞ্চাশ বছরের বেশি সময়৷ বাকি রয়েছে আরও পঞ্চাশ বছর৷

সূত্রের খবর, এই সমস্ত তথ্যই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জানান উত্তরাখণ্ডের পর্যটন মন্ত্রী সৎপাল মহারাজ৷ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, প্রবল তুষারঝড়ে হারিয়ে যাওয়া সেই পারমাণবিক যন্ত্রই পরবর্তীকালে গিয়ে মেশে গঙ্গায়৷ যা এখনও প্রবল ভাবে দূষিত করে চলেছে গঙ্গাকে৷ জানা গিয়েছে, বিষটিকে গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী৷ জানিয়েছেন, সেই ডিভাইস উদ্ধারে সর্বতভাবে সাহায্য করবে কেন্দ্র৷

print