মুক্ত-বাণিজ্য চুক্তি চীনা বস্ত্র আমদানি কমাতে ভারতীয় চেষ্টায় বাধা

মুক্ত-বাণিজ্য চুক্তি চীনা বস্ত্র আমদানি কমাতে ভারতীয় চেষ্টায় বাধা

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

চীন আমদানির ওপর বর্ধিত কর এড়াতে বাংলাদেশের মাধ্যমে ভারতে বস্ত্র রফতানি করায় স্থানীয় শিল্পকে সহায়তা করার নয়া দিল্লির উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে শিল্প সূত্র জানিয়েছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে তিন শতাধিক বস্ত্র পণ্যের ওপর শুল্ক দ্বিগুণ করে ২০ ভাগ করেছে ভারত। দুই মাসের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার শুল্ক বাড়ানো হলো।

এর লক্ষ্য হলো দেশের স্থানীয় বস্ত্র শিল্পকে স্বস্তি দেয়া। সস্তা আমদানির কারণে এই শিল্প বেশ কঠিন অবস্থায় পড়েছিল। ভারতের মোট বস্ত্র আমদানি ২০১৮ সালের মার্চ পর্যন্ত অর্থবছরে ১৬ ভাগ বেড়ে ৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে চীন থেকে আসে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের সামগ্রী।

ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তর চাকরি প্রদানকারী খাত হলো বস্ত্র। এত সরাসরি প্রায় ৫১ মিলিয়ন লোক নিয়াজিত। ভারতের জিডিপির ৫ ভাগ আসে এই খাত থেকে। আর ভারতের মোট রফতানির ১৩ ভাগ আসে এখান থেকে।

শিল্প কর্মকর্তারা বলেন, বস্ত্র খাতের কাঁচামাল চীন থেকে বাংলাদেশ হয়ে ভারতে আসছে। ভারতের সাথে বাংলাদেশের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি থাকায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের বস্ত্র বাজারে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে।

কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান টেক্সাটাইল ইন্ডাস্ট্রির (সিআইটিআই) সভাপতি সঞ্জয় জৈন রয়টার্সকে বলেন, চীন থেকে শুল্কমুক্ত কাপড় আসে বাংলাদেশে। এগুলোই শূন্য শুল্কে আসে ভারতে।

শিল্প সংস্থাগুলো জানাচ্ছে, ভারতের সর্বশেষ পদক্ষেপ স্থানীয় পোশাক শিল্পকে রক্ষা করতে যথেষ্ট নয়। এই শিল্প চীন ও বাংলাদেশের কাছ থেকে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে।

বাংলাদেশ হলো বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রফতানিকারক দেশ। এই রফতানি ২০১৮ সালের মার্চে ৪৩ ভাগ বেড়ে ২০০.৯ মিলিয়ন ডলার হয়েছে। এখন বাংলাদেশ থেকে ভারতে পোশাক ও সংশ্লিষ্ট সামগ্রী যাচ্ছে।

এক ভারতীয় বিশ্লেষক জানান, আমদানির ধরনে দেখা যাচ্ছে, পোশাকের ৪০ থেকে ৫০ ভাগ চীনা সুতায় তৈরি। তবে চীনা সুতায় তৈরি পোশাক কতটুকু ভারতে প্রবেশ করছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব করা কঠিন।

সাউথ এশিয়ান ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্টে (সাফটা) সইকারী দেশ হলো ভারত, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। তারা দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে অবাধ বাণিজ্য জোন চালু করেছে। এই চুক্তির আওতায় ওইসব পণ্যই বিনা শুল্কে রফতানি করা সম্ভব যেগুলোর কাঁচামাল সংশ্লিষ্ট দেশে রয়েছে।

এই বিধি ব্যবহার করে ভারতের অনেকে চীনা সুতায় তৈরি বাংলাদেশী পণ্য ভারতে প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে চাইছেন।

এদিকে ভারতের চেয়ে চীনা বস্ত্রের দাম প্রায় ১০ ভাগ কম। এর ফলে বিশেষ করে স্টকিংস, ব্লাউজ, শিশুদের পোশাক জাতীয় চীনা পণ্য ভারতে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে।

print
SOURCEরয়টার্স
শেয়ার করুন