বিমুখ যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তানী সেনাদের প্রশিক্ষণে এগিয়ে এসেছে রাশিয়া

বিমুখ যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তানী সেনাদের প্রশিক্ষণে এগিয়ে এসেছে রাশিয়া

এসএএম রিপোর্ট,
শেয়ার করুন

রাশিয়ার সামরিক ইন্সটিটিউটে পাকিস্তানী সেনা কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যাপারে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই অনেকটা কাকতালীয়ভাবে খবর প্রকাশিত হয় যে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন সেদেশে পাকিস্তানী সেনাদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বন্ধ করে দিয়েছে। অথচ এই কর্মসূচিকে এক দশকের বেশি সময় ধরে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সামরিক সম্পর্কের মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হতো।

এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের উপর কী প্রভাব ফেলবে তা এখন বিশ্লেষক ও পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মূল উদ্বেগের বিষয়।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ইন্টারন্যাশনাল মিলিটারি এডুকেশন এন্ড ট্রেনিং প্রগ্রাম (আইএমইটি) থেকে পাকিস্তানকে পুরোপুরি বাদ দেয়া হলে এই কর্মসূচির অধীনে প্রতিবছর যে ৬৬ সেনা অফিসার প্রশিক্ষণ নিতে যুক্তরাষ্ট্র যেতেন তারা আর যেতে পারবেন না। আসনগুলো খালি থাকবে বা অন্য দেশ থেকে অফিসার নিয়ে পূর্ণ করা হবে বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন।

প্রশিক্ষণ বন্ধ নিয়ে কোন তরফ থেকেই আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না পাওয়া গেলেও অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন যে এটা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য নেতিবাচক ফল বয়ে আনবে।

যুক্তরাষ্ট্রের আফগান ও পাকিস্তান বিষয়ক সাবেক বিশেষ প্রতিনিধি ড্যান ফেল্ডম্যান-এর মতে এই উদ্যোগ ‘খুবই ক্ষীণ দৃষ্টি সম্পন্ন।’

কিন্তু এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বন্ধ করে দেয়ায় পাকিস্তানের উপর খুব একটা প্রভাব নাও পড়তে পারে। কারণ দেশটি তার সামরিক প্রয়োজন পূরণের জন্য ইতোমধ্যে দৃষ্টি রাশিয়া ও চীনের দিকে সরিয়ে নিয়েছে। সর্বশেষ চুক্তি থেকে বুঝা যায় রাশিয়া ও পাকিস্তানের সম্পর্ক অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ।

যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়াতেও এই চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হওয়ায় পাকিস্তান তার সামরিক প্রয়োজন পূরণের জন্য ক্রমেই রাশিয়ার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

পাকিস্তানের সিনেটর ও পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান মুশাহিদ হোসাইন সৈয়দও যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে ‘ভুল ও নেতিবাচক ফলদায়ক’ হিসেবে অভিহিত করেন।

তার মতে পাকিস্তানকে ধমকানি ও চোখ রাঙ্গানির মতো ক্ষীণদৃষ্টির নীতিগুলো ব্যর্থ হওয়া পর অতীত ভুলের পুনরাবৃত্তি করছে যুক্তরাষ্ট্র।

এমন কি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিসও পাকিস্তানী সেনাদের আইএমইটি কোর্স থেকে বাদ দেয়ার বিরোধিতা করেছেন বলে দেশটির কর্মকর্তারা সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন।

এই আলোচনায় অংশগ্রহণকারী যুক্তরাষ্ট্রের এক সাবেক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি মনে কষ্ট পেয়েছি… এই একটি জিনিস রক্ষার জন্য আমরা অনেক পরিশ্রম করেছি।’

মার্কিন সেনাবাহিনীর সাধারণত এ ধরনের কর্মসূচিকে রাজনৈতিক উত্তেজনার বাইরে রাখতে সচেষ্ট ছিলো। তাদের যুক্তি ছিলো বিদেশের সেনা অফিসারদের যুক্তরাষ্ট্রে এনে প্রশিক্ষণ দেয়া হলে তা দীর্ঘ মেয়াদে সুফল দেয়।

পাকিস্তানের ক্ষমতাধর গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’র বর্তমান প্রধান লে. জেনারেল নাভিদ মুখতারও যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়ায় অবস্থিত আর্মি ওয়ার কলেজ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। এই কলেজেই পাকিস্তানের ৩৭ সেনা কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তবে আগামী বছর থেকে এখানে কোন পাকিস্তানী কর্মকর্তা আর প্রশিক্ষণ নিতে আসবেন না।

যুক্তরাষ্ট্রের নেভাল ওয়ার কলেজ, নেভাল স্টাফ কলেজ ও সাইবারসিকিউরিটি স্টাডিজসহ বিভিন্ন কোর্স থেকে পাকিস্তানী কর্মকর্তাদের নাম বাদ দেয়া হয়েছে।

print
SOURCEদি নিউজ
শেয়ার করুন