পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে শান্তির মধ্যস্ততা

পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে শান্তির মধ্যস্ততা

হানিন রাফি,
শেয়ার করুন

সঙ্কটের সময় পাকিস্তান ও ভারত বহির্বিশ্বের কাছে কম না হয়ে আরো বেশি নির্ভরশীল হয়ে ওঠে, বলেছেন ড. মইদ ইউসুফ।

ইউনাইটেড স্টেটস ইনস্টিটিউট অব পিসের এশিয়া সেন্টারের এসোসিয়েট ভাইস প্রেসিডেন্ট শুক্রবার ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অডিটরিয়ামে পরমাণু শক্তিসম্পন্ন দুই দেশ সম্পর্কে কথা বলার সময় এ মন্তব্য করেন।

পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে অনেক বিষয়েই মিল আছে। কিন্তু তবুও তারা কিভাবে এত বৈরী হলো, সেটি সতর্কতার সাথে বিবেচনার বিষয়।

দুই দেশের এই সম্পর্ক বিশ্লেষণ করতে ড. ইউসুফ তার সর্বশেষ গ্রন্থ ‘ব্রোকারিং পিস ইন নিউক্লিয়ার এনভায়রনমেন্টস: ইউএস ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট ইন সাউথ এশিয়ার’ কথাও আনেন। বইটিতে তিনি পরমাণু অস্ত্র কিভাবে পরিবেশকে প্রভাবিত করছে, তা তুলে ধরেছেন। তিনি পাকিস্তান ও ভারতের আঞ্চলিক পরমাণু পরিবেশে সঙ্কট ব্যবস্থাপনা ও শান্তির মধ্যস্ততার তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন।

তিনি কার্গিল, ২০০১-২০০২ সালের অচলাবস্থা, মুম্বাই, সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের ঘটনা তুলে ধরে বলেন, এখানে তৃতীয় পক্ষের উপস্থিতি রয়েছে। আর সেটি হলো যুক্তরাষ্ট্র। এই দেশটিই সঙ্কট ব্যবস্থাপনার কেন্দ্রে রয়েছে।

তিনি বলেন, আঞ্চলিক পরমাণু সঙ্কট এখন আর দ্বিপক্ষীয়ভাবে আলোচনা করা যায় না। এখানে তৃতীয় পক্ষের উপস্থিতি অপরিহার্য।

তিনি বলেন, আমার মত হলো শক্তিশালী তৃতীয় পক্ষের উপস্থিতি থাকতেই হবে। এই তৃতীয় পক্ষ সঙ্কটে প্রভাব বিস্তার করতে চাইবেই। কারণ তার মনে হতে পারে, পরিস্থিতি পরমাণু যুদ্ধ পর্যায়ে চলে যেতে পারে। এই তৃতীয় পক্ষ নিজের গরজেই দেখা দেবে।

তিনি বলেন, উদাহরণ হিসেবে বলা যায় যে যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু উত্তেজনা বৃদ্ধির ঝুঁকি বড় করে দেখায়। সে স্নায়ুযুদ্ধ থেকে এই শিক্ষাটি গ্রহণ করেছে।

ড. ইউসুফ বলেন, পাকিস্তান ও ভারত তৃতীয় পক্ষকে চায়, বিষয়টি এমন নয়। অবশ্য তৃতীয় পক্ষ যখন মধ্যস্ততায় এগিয়ে আসে, সঙ্কট প্রশমিত করতে সহায়তা করতে চায়, তখন পাকিস্তান ও ভারত স্বীকার করে নেয় যে তাদের কাছে নির্ভর করার মতো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নেই।

তিনি বলেন, দুই পক্ষই নিজেরা সরাসরি অপর দেশের সাথে আলোচনায় না বসে ছাড় আদায়ের জন্য তৃতীয় পক্ষকে চাপ দেয়। পাকিস্তান ও ভারত উভয়েই ছাড় আদায়ের জন্য তৃতীয় পক্ষকে ব্যবহার করার চেষ্টা করে।

ড. ইউসুফ বলেন, মধ্যস্ততা করার জন্য অনেক দক্ষতা থাকতে হয়। তাদের বিষয়টি এমনভাবে তুলে ধরতে হয় যাতে বিষয়টি দ্বিপক্ষীয় না থেকে ত্রিপক্ষীয় বিষয়ে পরিণত হয়।

তবে তিনি বলেন, পাকিস্তান ও ভারতের উচিত এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসা। তাদের উচিত সম্পর্ক উন্নত করা, যাতে তৃতীয় পক্ষের উপস্থিতি ছাড়াই সরাসরি কথা বলে তারা সঙ্কট নিরসন করতে পারে।

তবে সাবেক প্রতিরক্ষাসচিব লে. জেনারেল (অব.) তারিক ওয়াসিম গাজি এর সাথে একমত নন। তিনি বলেন, ভারত কোনোভাবেই সরাসরি পাকিস্তানের সাথে কথা বলতে চায় না। এমনকি তারা জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের সাথে মিলেও আলোচনায় রাজি নয়।

তিনি বলেন, ভারত চায় এককভাবে নির্দেশনা দিতে। গত ১০ বছর ধরে আমরা তাদের সাথে আলোচনা করতে সব ধরনের চেষ্টাই করেছি। কিন্তু ভারত একটি প্রস্তাবেও রাজি হয়নি।

পাকিস্তানের পরমাণু নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান জামশেদ হাশমি বলেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সঙ্কট প্রশমিত করার চেষ্টার সময় যুক্তরাষ্ট্র ভালোর চেয়ে খারাপ করে বেশি।

print
SOURCEডন
শেয়ার করুন