পাকিস্তান তার ভূখণ্ড দিয়ে ভারত-আফগানিস্তান বাণিজ্যের সুযোগ দেয়া নিয়ে ভাবছে

পাকিস্তান তার ভূখণ্ড দিয়ে ভারত-আফগানিস্তান বাণিজ্যের সুযোগ দেয়া নিয়ে ভাবছে

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন
আফগানিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন ব্যাস

পাকিস্তান চলতি বছরের প্রথম দিকে আফগানিস্তানকে বলেছিল, তারা আবার স্থল রুট দিয়ে পাকিস্তান হয়ে আফগানিস্তান ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য শুরু করা নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী। আফগানিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন ব্যাস ইকোনমিক টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে এ কথা বলেন।

এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ পাকিস্তান কয়েক বছর ধরেই তার ভূখণ্ড দিয়ে আফগানিস্তানে ভারতীয় পণ্য পরিবহন করতে দিতে রাজি ছিল না।

ব্যাস বলেন, দুটি ঘটনার পর আফগানিস্তানের কাছে প্রস্তাবটি দিয়েছে পাকিস্তান। প্রথমটি হলো, বিমানযোগ ভারত থেকে আফগানিস্তানে পণ্য পরিবহন বৃদ্ধি। তাছাড়া আফগানিস্তান ও উজবেকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে এখন পাকিস্তান চাচ্ছে তার ভূখণ্ড দিয়ে ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যে বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা আবার শুরু করতে।

মুম্বাইয়ে ভারত-আফগানিস্তান বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রদর্শনীর ফাঁকে তিনি এ মন্তব্য করেন। দূত বলেন, ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো আফগানিস্তানে বিনিয়োগ করছে। গত বছরই আফগানিস্তানে ভারতীয় বিনিয়োগ ছিল ২৭ মিলিয়ন ডলার। আরো ২০০ মিলিয়ন বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।

ব্যাস বলেন, আফগানিস্তানের রাজনৈতিক নিষ্পত্তির প্রতি পাকিস্তানের দীর্ঘ মেয়াদি আগ্রহ রয়েছে। পাকিস্তান যদি বর্তমান অবস্থা স্থায়ী করার দিকে মনোযোগ দেয় তবে আফগানিস্তান দিয়ে মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় যাওয়ার বর্ধিত কানেকটিভিটির সুযোগ হারাবে।

মার্কিন দূত স্বীকার করেন, ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধের বিষয়টি ভারত সরকার উত্থাপন করেছে। গত সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিসের সাথে আলাপকালে ইরানের বন্দর চাহাবারের ওপর ইরানে মার্কিন অবরোধের প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারতের জন্য চাহাবার বন্দরটি কত গুরুত্বপূর্ণ তা যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে ভারতীয় পক্ষ। ভারত মনে করে, এই বন্দর দিয়ে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় যাওয়ার পথ করে নিতে পারবে তারা।

ব্যাস আরো বলেন, ইরানের ওপর কিভাবে আরো ভালোভাবে অবরোধ আরোপ করা যায়, তা নিয়ে আমরা ভাবছি। তিনি বলেন, ইরানি সরকার এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করবে। ইরানি সরকারকে তাদের অসদাচরণ থেকে ফিরিয়ে আনতে কঠোরতম অবরোধ আরোপ করা হচ্ছে।

ব্যাস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মনে করে না যে আফগানিস্তানের সঙ্ঘাত সামরিক উপায়ে নিরসন করা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের কেউই তা মনে করে না। তিনি বলেন, আমরা মনে করি, রাজনৈতিক উপায়েই এই সঙ্ঘাতের অবসান সম্ভব।

print