ভুটানে তৃতীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোট গ্রহণ, চলছে ভারত ও চীনের প্রভাব বিস্তারের...

ভুটানে তৃতীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোট গ্রহণ, চলছে ভারত ও চীনের প্রভাব বিস্তারের লড়াই

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন
থিম্ফুর একটি ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে আসা ভোটারের হাতে কালি লাগিয়ে দিচ্ছেন নির্বাচনী কর্মকর্তা, ছবি: এএপি

‘ল্যান্ড অব থান্ডার ড্রাগন’ – ভুটানের জনগণ শনিবার দেশের তৃতীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনের প্রাথমিক রাউন্ডে ভোট দিয়েছেন। অন্যদিকে ক্ষুদ্র এই হিমালয়ান রাজ্যটিতে প্রভাব বিস্তারের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে দুই অতিকায় প্রতিবেশী: ভারত ও চীন।

শনিবারের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পাওয়া দুটি দল ১৮ অক্টোবর চূড়ান্ত ভোটাভুটিতে অংশ নেবে। যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পাবে সে হবে ক্ষমতাসীন দল। আর দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা দলটি বিরোধী দলের আসনে বসবে। বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে (৫২) উপর্যুপরি দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় যাওয়ার আশা করছেন।

কিন্তু তোবগের পিপলস ডেমক্রেটিক পার্টি (পিডিপি) এবার ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী দ্রুক ফুয়েনসাম সগপা (ডিপিটি) ও অন্য দুই দলের কাছ থেকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্মুখিন।

সুইজারল্যান্ডের সমান মাত্র আট লাখ জনসংখ্যার দেশ ভুটানে ১৯৯৯ সালে টেলিভিশন চালু হয়। আর গণতন্ত্রের আগমণ ঘটে ২০০৮ সালে। তখন ‘ড্রাগন রাজারা’ তাদের নিরংকুশ ক্ষমতা ত্যাগ করেন।

কিন্তু রাজ্যটি আধুনিকায়নের ক্ষতিকর দিকগুলো থেকে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাই গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস বাড়ানো, কার্বন-নেগেটিভ হওয়া, এবং প্রধান মওসুমে পর্যটন ফি ২৫০ ডলার নির্ধারণ করে পর্যটকের সংখ্যা নিম্ন পর্যায়ে রাখতে চাইছে।

দেশটিতে মতামত জরিপ নিষিদ্ধ এবং বিশ্লেষণের পরিমাণও খুব ক্ষীণ। তবে একজন পর্যবেক্ষক বলেন যে, পিডিপি যেভাবে অর্থনীতি সামাল দিয়েছে তাতে দলটি কিছুটা সুবিধা পাবে। অর্থনীতি শক্তিশালী হয়েছে এবং বেকারত্ব নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।

তবে, দুর্নীতি, গ্রামীণ দারিদ্র, তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব ও অপরাধী চক্রগুলোর তৎপরতা এখনো চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

ভুটানিজ ডেইলির সম্পাদক তেনজিং লামসাং বলেন, ‘২০১৮ সালে নির্বাচনের মূল ইস্যু ২০১৩ ও ২০০৮ সালের মতো একই: অর্থনীতি, গ্রামীণ উন্নয়ন, পরিকাঠামো এবং কিছুটা পর্যটন।’

সাহায্য, পরিকাঠামো বিনিয়োগ, আমদানি-রফতানি বাজার এবং বিশেষ করে উৎপাদিত জলবিদ্যুতের জন্য প্রতিবেশী ভারতের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ভুটান।

২০১৩ সালের নির্বাচনের আগে ভারত হঠাৎ করে ভুটানে রফতানি করা কেরোসিন ও রান্নার গ্যাসের উপর সাবসিডি প্রত্যাহার করে নেয়। স্পষ্টত ক্ষমতায় পরিবর্তন আনতে এ কাজটি করে নয়া দিল্লি।

ভুটানের উপর চীনের প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারত স্বস্তিতে নেই। গত বছর ভুটানের অদূরে দোকলাম উপত্যকায় ভারত ও চীনা সৈন্যদের মধ্যে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছিলো। স্থানটি ভুটান ও চীন দু দেশই নিজের বলে দাবি করছে।

ভারত দোকলামের মালিকানা দাবি না করলেও ভুটানে ভারতের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। দোকলামে চীন একটি সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে ভারতীয় সেনারা গিয়ে বাধা দেয়। ভুটানের পক্ষে ভারত হস্তক্ষেপ করেছে বলে নয়া দিল্লির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। কিন্তু ভারতের বিরুদ্ধে সীমান্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে চীন।

print
SOURCEএএফপি
শেয়ার করুন