আনুষ্ঠানিকভাবে আইএমএফের কাছে ‘আর্থিক সহায়তা’ চেয়েছে পাকিস্তান

আনুষ্ঠানিকভাবে আইএমএফের কাছে ‘আর্থিক সহায়তা’ চেয়েছে পাকিস্তান

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

আইএমএফের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অর্থ সহায়তা চেয়েছে পাকিস্তান। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানানো হয়েছে। এখন দুই পক্ষের মধ্যে ধারাবাহিক আলোচনা চলবে এবং পরিণতিতে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি আইএমএফ থেকে ঋণ সহায়তা পেতে পারে।

আইএমএফের প্রধান ক্রিস্টিন লাগার্দে বলেছেন, তিনি পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী আসাদ উমর এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর তারিক বাজওয়ার সাথে বৈঠক করেছেন। ইন্দোনেশিয়ার বালিতে আইএমএফ এবং ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের বার্ষিক বৈঠকের ফাঁকে তারা ও বৈঠক করেন।

মিস লাগার্দে বলেন, “বৈঠকে তারা আইএমএফের কাছে অর্থ সহায়তার আবেদন করেন যাতে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা যায়”। তিনি আরও বলেন যে, আলোচনা শুরুর জন্য আইএমএফের একটি টিম আগামীতে ইসলামাবাদ সফরে যাবে।

উমর আইএমএফের দ্বারস্থ হওয়ার পরিকল্পনা নিশ্চিত করার তিন দিন পর লাগার্দের এই বিবৃতি প্রকাশিত হলো। পাকিস্তানের ইতিহাসে এটা আইএমএফের কাছ থেকে নেয়া ১৩তম ঋণ। সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো জানিয়েছে, সরকার ৬ থেকে ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ চাইবে। ২০১৩ সালে আইএমএফের কাছ থেকে কাছাকাছি অঙ্কের ঋণ নিয়েছিল পাকিস্তান।

কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে পাকিস্তানের রুপির ৭ শতাংশ অবমূল্যায়ন হতে দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, আইএমএফের সম্ভাব্য শর্ত হিসেবেই এটা করা হয়েছে।

পাকিস্তানের সিনিয়র একজন সরকারি কর্মকর্তা ফিনান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান গত এক দশকে দেশের সামগ্রিক ঋণের চিত্র তুলে ধরে একটা পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করতে অর্থমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন। আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণের ফলে দেশে যে অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে, সেটার মোকাবেলার জন্যই এ পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি।

ওই কর্মকর্তা বলেন, “ঋণ গ্রহণের সাথে যে সব শর্ত দেয়া হবে, সেগুলোর মধ্যে কঠিন কিছু বিষয়ও থাকবে এবং সরকারকে এটা ব্যাখ্যা করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে যে, কেন পাকিস্তান আইএমএফের কাছে যেতে বাধ্য হয়েছে”।

পাকিস্তানের ব্যবসায়ীরা মনে করছেন না যে, সরকার চীনের কাছ থেকে নেয়া ঋণের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে রাজি হবে। চায়না-পাকিস্তান ইকোমনিক করিডোর পরিকল্পনার অধীনে ৬২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন। একটি ব্যাংকের প্রধান বলেন, “আমাদের ক্ষমতাসীন মহলে সিপিইসিকে পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির জিয়নকাঠি হিসেবে দেখা হয়”।

পাকিস্তানে এ ধরনের উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন আইএমএফ ঋণকে আটকে দিতে পারে। গত জুলাই মাসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, এই সহায়তার অর্থ দিয়ে চীনা ঋণ পরিশোধ করা যাবে না।

ওয়াশিংটনের এই ধরনের চাপ চীনের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্কের উপর কোন প্রভাব ফেলবে না বলে জানিয়েছেন ইসলামাবাদের এক সিনিয়র কর্মকর্তা।

print