পুলওয়ামাকে ব্যবহার করে মুসলিম ও কাশ্মিরিদের উপর হামলা চালাচ্ছে হিন্দু গ্রুপগুলো, বলছে...

পুলওয়ামাকে ব্যবহার করে মুসলিম ও কাশ্মিরিদের উপর হামলা চালাচ্ছে হিন্দু গ্রুপগুলো, বলছে মাইনরিটিজ প্যানেল

গৌরব বিবেক ভাটনগর,
শেয়ার করুন

বৃহস্পতিবার পুলওয়ামাতে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের বহরের উপর ভয়ঙ্কর আত্মঘাতী হামলায় যে ৪০ জওয়ান নিহত হয়েছে এবং আরও অনেকে আহত হয়েছে, সে ঘটনা সারা দেশে তীব্র প্রতিবাদ উসকে দিয়েছে। তবে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে খবর পাওয়া গেছে যে, এই সব বিক্ষোভকে ব্যবহার করে কট্টর হিন্দুরা মুসলিম ও কাশ্মিরিদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াচ্ছে।

শনিবার দিল্লী কমিশনার ফর মাইনরিটিজ দিল্লী পুলিশের কাছে বিষয়টি তুলেছেন। কমিশনার আমুলিয়া পাটনায়েকের কাছে লেখা এক চিঠিতে প্যানেল চেয়ারপার্সন জাফারুল ইসলাম খান উল্লেখ করেন যে, “পুলওয়ামার সন্ত্রাসী হামলার পরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কাশ্মিরি এবং এমনকি সাধারণ মুসলিমদের উপর হামলা করা হচ্ছে”।

খান উল্লেখ করেন, “এমনকি খোদ দিল্লীতেও পরিবেশের অবনতি ঘটানো এবং দাঙ্গা বাঁধানোর  চেষ্টা করা হচ্ছে”। যে ভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই বিক্ষোভগুলো সমস্যা উসকানোর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেদিকেও ইঙ্গিত করেন তিনি।

‘উসকানিমূলক শ্লোগান দেয়া হচ্ছে’

কমিশনারের কাছে লেখা চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, “হিন্দুবাদী গ্রুপগুলো মুসলিম প্রধান ও মিশ্র জনগোষ্ঠির এলাকাগুলোতে সমাবেশ করছে এবং সেখান থেকে উসকানিমূলক শ্লোগান দেয়া হচ্ছে”। পুলিশের পক্ষ থেকে অবিলম্বে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ দাবি করেন তিনি।

খান সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, “দিল্লী পুলিশ সতর্ক ও ইতিবাচক ভূমিকা না নিলে জম্মুর মতো দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়বে”। তিনি পাটনায়েকের প্রতি জোর দাবি জানান যাতে তিনি “দিল্লীর সবগুলো স্টেশনের প্রতি সতর্ক ও সক্রিয় থাকার আদেশ দেন, যাতে যে কোন মূল্যে শান্তি বজায় রাখা যায়”।

জম্মু, পাটনায় সহিংসতা

পাটনায় শুক্রবার কাশ্মিরি বাজারে কাশ্মিরি নাগরিকদের উপর একদল লোক হামলা করে। এতে কমপক্ষে চারজন আহত হয়। এই ঘটনার পর ৪০ জন কাশ্মিরি অধিবাসী, যাদের সেখানে আটটি দোকান রয়েছে – তারা তাদের ব্যবসায় গুটিয়ে ফেলার কথা ভাবছেন বলে জানা গেছে।

শনিবার সন্ধ্যায় দ্য ওয়্যার অফিসে ফোন দেয় দেহরাদুন এলাকার একদল কাশ্মিরি নাগরিক। হিন্দু জনতা তাদের বিরুদ্ধে সহিংসতার হুমকি দিলে পুলিশ তাদেরকে মুসলিমপ্রধান এলাকায় সরিয়ে নিয়ে যায়। তাদের একজন বলেছে, “প্লিজ আমাদেরকে এখান থেকে হেলিকপ্টারে উঠিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করুন”।

সারা দেশে মুসলিম ও কাশ্মিরিদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও হুমকির রিপোর্টের প্রেক্ষিতে, সিআরবিএফ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে কাশ্মির থেকে আসা শিক্ষার্থী ও অন্যান্যদের সাথে যোগাযোগ করছে যাতে তাদেরকে সাহায্য করা যায়।

print