২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১.২৮ ট্রিলিয়ন রুপি বাজেট

২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১.২৮ ট্রিলিয়ন রুপি বাজেট

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

নেপাল সরকার ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরের জন্য ১.২৭৮ ট্রিলিয়ন রুপির বাজেট পেশ করেছে। এই বাজেট অতীতের অন্য বাজেট থেকে ভিন্ন, কারণ এবারই প্রথমবারের মত ফেডারেল ইউনিটের জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদ বরাদ্দ করা হয়েছে। নতুন সংবিধান বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে  কেন্দ্রীয় সরকার ৭৪৪ টি স্থানীয় ইউনিটে ২২৫ বিলিয়ন এবং সাতটি প্রদেশের প্রতিটিতে ১.০২ বিলিয়ন রুপী বরাদ্দ করেছে। নতুন অর্থবছরের জন্য সরকারের বার্ষিক আয় এবং ব্যয় পরিকল্পনা সংসদে পড়ার পর অর্থমন্ত্রী কৃষ্ণা বাহাদুর মহারা বলেন যে, সংসদ সদস্যরা তাদের স্থানীয় এলাকাগুলির উন্নয়ন কর্মসূচী কেন্দ্রীয় স্তরের বাজেট এবং কর্মসূচিতে খুঁজে পাবে না। এই ধরনের কার্যক্রম সরাসরি গ্রামীণ পৌরসভা,  উপশহর এবং মহানগরগুলিতে বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে হবে। স্থানীয় সংস্থাগুলি এখন থেকে তাদের নিজস্ব বাজেটে কর্মসূচিগুলি প্রস্তুত করবে। এর আগের বিদ্যমান ব্যবস্থায় ক্ষুদ্র প্রকল্পের জন্যে এমনকি এক মিলিয়ন রুপির চেয়ে কম মূল্যমানের প্রকল্পে  কেন্দ্র থেকে সহায়তা চাওয়া হত।

মাহারা বলেন যে, বাজেট জনসংখ্যা, উন্নয়ন সূচকগুলির ভিত্তিতে বরাদ্দ করা হয়েছে এবং এসময় উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় খরচ যেমন নির্মাণ সামগ্রী ও শ্রমের মূল্য ইত্যাদি বিবেচনা করা হয়েছে। আর্থিক সমীকরণের অংশ হিসাবে প্রতিটি পল্লী পৌরসভায় ন্যূনতম ১০০ মিলিয়ন এবং সর্বোচ্চ ৩৯০ মিলিয়ন রুপী দেওয়া হবে। মিউনিসিপিলিটি এবং উপশহরগুলোতে বরাদ্দ হয়েছে যথাক্রমে ১৫০ থেকে ৪৬০ মিলিয়ন এবং ৪০০ থেকে ৬৩০ মিলিয়ন পর্যন্ত। স্থানীয় ইউনিটগুলিও শর্তাধীন অনুদান হিসাবে আলাদা বাজেট বরাদ্দ পেয়েছে, যার পরিমাণ ৭৬ বিলিয়ন রুপী। প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী ভারতমোহন অধিকারী বলেন যে, বাজেট স্থানীয় ইউনিটগুলিকে সংবিধান বাস্তবায়নের ক্ষমতা দিয়েছে কিন্তু স্থানীয় ইউনিটের জন্য বরাদ্দকৃত পরিমাণ এখনও যথেষ্ট নয়। অধিকারী উদাহরণ দেন “নতুন গঠিত স্থানীয় ইউনিটগুলির জন্য নতুন অফিস ভবন নির্মাণ এবং নতুন সেটআপ স্থাপন করতে বড় ধরণের খরচ হবে”

চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় এই বাজেট ৩৬ শতাংশ বেড়েছে। ২৬ শতাংশ রাজস্ব বৃদ্ধির (৭৩০বিলিয়ন) যে লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে তা গত দশ বছরে সর্বোচ্চ। সরকার স্থানীয় অর্থবাজার থেকে ১৪৫ বিলিয়ন টাকা ধার করতে চায় কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ও উন্নয়নের জন্য এই পরিমাণ কমাতে হবে। সাবেক গভর্নর দিপেন্দ্র বাহাদুর শেস্ত্রি বলেন “ বাজেট ঘাটতি পূরণের এই পদক্ষেপ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যকে প্রভাবিত করবে”। বর্তমান অর্থবছরে সরকার ৬.৯৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। আগামী অর্থবছরের জন্য প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭.২ শতাংশ এবং মুদ্রাস্ফীতি ৭ শতাংশ নিচে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

print